সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তোলা ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’ কি এবার ভোটের ময়দানে? নিবন্ধনের আবেদন জানালেন আইনজীবী!

ডিজিটাল দুনিয়ায় রীতিমতো শোরগোল ফেলে দেওয়া অনলাইন গ্রুপ ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’ (Cockroach Janata Party বা CJP) এবার কি দোরগোড়ায় কড়া নাড়ছে ভোটের রাজনীতিতে? প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের এক মন্তব্যকে ঘিরে জন্ম নেওয়া এই অদ্ভুত নামের সংগঠনটিকে এবার আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধনের আবেদন জানানো হয়েছে নির্বাচন কমিশনে।
নিবন্ধনের নেপথ্যে আইনজীবী
হরিয়ানার পানিপথের ৩৫ বছর বয়সী আইনজীবী সুধীর জাখর এই চাঞ্চল্যকর আবেদনটি দাখিল করেছেন। ১৯৫১ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ২৯এ ধারার অধীনে তিনি নির্বাচন কমিশনের কাছে সিজেপি-কে একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে স্বীকৃতির দাবি জানিয়েছেন। আবেদনে তিনি নিজেকে দলটির জাতীয় আহ্বায়ক হিসেবে ঘোষণা করেছেন।
কেন এই উদ্যোগ?
সুধীর জাখর জানান, প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের মন্তব্যে দেশজুড়ে মানুষের মধ্যে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, তাকে একটি রাজনৈতিক মঞ্চ দেওয়ার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ। তিনি আরও জানান, সিজেপি-র মূল প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপ বর্তমানে বিদেশে থাকায় এবং তাঁর ফেরার কোনো নির্দিষ্ট সময় না থাকায়, সংগঠনের বৃহত্তর স্বার্থে তিনি নিজেই দায়িত্ব নিয়েছেন।
আইনজীবী জাখরের মতে, “সোশ্যাল মিডিয়ায় সিজেপি-র যে জনপ্রিয়তা, তাকে রাজনৈতিক শক্তিতে রূপান্তরিত করাই এখন সময়ের দাবি।” তাঁর দাবি, খুব অল্প সময়েই ইনস্টাগ্রামে ২০ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ এই পার্টির আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়েছেন।
সংবিধান ও অঙ্গীকার
নিবন্ধনের আবেদনে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, সিজেপি ভারতের সংবিধানের কাঠামোর ভেতরে থেকেই সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও গণতন্ত্রের আদর্শ প্রচার করবে। দলটির লক্ষ্য সম্পর্কে জাখর বলেন:
কোনো ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ বা আঞ্চলিক বৈষম্য থাকবে না।
নাগরিকদের মৌলিক কর্তব্য সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করাই হবে অন্যতম প্রধান কাজ।
শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক সংস্কারের মাধ্যমে সামাজিক পরিবর্তনের পথ প্রশস্ত করা।
কে এই সুধীর জাখর?
নিবন্ধনের আবেদনকারী সুধীর জাখর দীর্ঘ সময় ছাত্র রাজনীতি ও সামাজিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিন কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে হওয়া ঐতিহাসিক কৃষক বিক্ষোভে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। সে সময় তাঁর বিরুদ্ধে মামলাও দায়ের হয়েছিল।
এখন কী হবে?
নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, দলটির সংবিধান, হলফনামা এবং সদস্যপদের বিস্তারিত তথ্য জমা দিতে হবে। কমিশনের তরফ থেকে সবুজ সংকেত মিললে, সোশ্যাল মিডিয়ার ‘তেলাপোকা’ লোগোটিই হয়তো অদূর ভবিষ্যতে নির্বাচনী ব্যালট পেপারে জায়গা করে নেবে।
দেশের রাজনীতিতে এক অদ্ভুত ও অভিনব এই মোড় কতটা প্রভাব ফেলে, তা এখন দেখার অপেক্ষায় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।