‘কালো’ হওয়ার অপরাধে স্বামী ও শাশুড়িকে জেল খাটানোর হুমকি! পুত্রবধূর অত্যাচারে অতিষ্ঠ পরিবার

পুত্রবধূদের নির্যাতনের অভিযোগ থানায় পৌঁছানো নতুন কিছু নয়, কিন্তু গোয়ালিয়রের গোসপুরা এলাকা-১ থেকে সামনে আসা একটি ঘটনা রীতিমতো আলোড়ন তৈরি করেছে। এবার নির্যাতনের অভিযোগ কোনো শাশুড়ির বিরুদ্ধে নয়, বরং পুত্রবধূর বিরুদ্ধে। বর্ণবাদী আচরণ, আইফোন ও এসির দাবিতে ব্ল্যাকমেইল এবং আত্মহত্যার নাটক—অভিযোগের পাহাড় নিয়ে শেষমেশ পুলিশ সুপারের (SP) দ্বারস্থ হয়েছেন এক ভুক্তভোগী বৃদ্ধা ও তাঁর ছেলে।

ঘটনার সূত্রপাত যেখানে
ভুক্তভোগী কমল কিশোর ও তাঁর বৃদ্ধা মা আতার দেবীর অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই লাতেশ মাহোর নামের ওই পুত্রবধূ পরিবারের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালিয়ে আসছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, কমল কিশোরের গায়ের রঙ কিছুটা কালো হওয়ার কারণে তাকে দিনরাত অপমান করতেন স্ত্রী। এখানেই শেষ নয়, বিয়ের পর থেকেই আইফোন ও দামি এসির মতো বিলাসদ্রব্যের জন্য প্রবল চাপ সৃষ্টি করা হতো। মধ্যবিত্ত পরিবারের পক্ষে এই দাবি মেটানো অসম্ভব হয়ে পড়ায় গৃহযুদ্ধ শুরু হয়।

আইনের ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল
বৃদ্ধা শাশুড়ি আতার দেবীর অভিযোগ, চাহিদা পূরণ না হলেই পুত্রবধূ তাঁদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে জেলে পাঠানোর হুমকি দিতেন। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে ওঠে যে, কয়েকবার তিনি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার নাটকও সাজিয়েছেন। শাশুড়ির দাবি, শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে মানসিকভাবে বিধ্বস্ত করে তালাক আদায় করাই ছিল পুত্রবধূর মূল উদ্দেশ্য।

ভিডিও প্রমাণ নিয়ে এসপি অফিসে ভুক্তভোগীরা
পুরো পরিবারের অভিযোগ, পুত্রবধূর এই ষড়যন্ত্রে সরাসরি মদত দিচ্ছেন তাঁর বাবা-মা। ফোনে নিয়মিত প্ররোচনা দিয়ে শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের হেনস্থা করার নির্দেশ দেওয়া হতো। স্থানীয় থানায় গিয়েও বিশেষ কোনো সুরাহা না পাওয়ায়, ভুক্তভোগী কমল কিশোর অত্যন্ত বিচক্ষণতার সঙ্গে পুত্রবধূর অকথ্য গালিগালাজ ও হুমকির ভিডিও রেকর্ড করে রাখেন। সম্প্রতি এসপি অফিসে সেই ভিডিও প্রমাণসহ অভিযোগ দায়ের করেন তাঁরা।

পুলিশের অবস্থান
গোয়ালিয়র পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই মামলাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। পরিবারের দেওয়া ভিডিও ক্লিপগুলো বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। পুলিশের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “আইন সবার জন্যই সমান। উভয় পক্ষকেই জবানবন্দির জন্য তলব করা হবে এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য সামনে আনা হবে।”