ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ কি শেষ হচ্ছে? জব্দকৃত ১২০ বিলিয়ন ডলার ফেরতের শর্তে বড় মোড়!

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার অবসান ঘটিয়ে যুদ্ধ থামানোর আলোচনা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। সিএনএন-এর তথ্য অনুযায়ী, উভয় দেশ একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) নিয়ে কাজ করছে, যা দুই দেশের মধ্যকার বিদ্যমান সংকট সমাধানের পথ প্রশস্ত করবে। তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, চুক্তিটি এখনও প্রক্রিয়াধীন। বিপরীতে, আল জাজিরার দাবি, চুক্তি চূড়ান্ত এবং তা এখন স্বাক্ষরের অপেক্ষায়।
ইরানের মূল শর্ত: জব্দকৃত অর্থ ফেরত
এই চুক্তির আগে ইরান একটি শর্ত সামনে রেখেছে—বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশে জব্দ থাকা তাদের সমস্ত অর্থ ও সম্পদ ফেরত দিতে হবে। বিভিন্ন সূত্র মতে, বিদেশে জব্দ হওয়া ইরানের এই সম্পদের পরিমাণ ১২০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি (প্রায় ১১.৪৯ লক্ষ কোটি রুপি)।
কোথায় আটকে আছে ইরানের অর্থ?
আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, আটটি দেশে এই বিশাল অংকের অর্থ আটকে রয়েছে:
চীন: প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার (সবচেয়ে বড় অংশ)।
কাতার: প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার।
ভারত: ৭ বিলিয়ন ডলার।
ইরাক: প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলার।
যুক্তরাষ্ট্র: ১.২ বিলিয়ন ডলার।
জাপান ও লুক্সেমবার্গ: প্রায় ১.৫ বিলিয়ন ডলার করে।
এছাড়াও তুরস্কসহ আরও কিছু দেশে ইরানের সম্পদ জব্দ রয়েছে।
কাতার ও আলোচনার প্রেক্ষাপট
ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান আবদোলনাসের হেম্মাতির নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের দল কাতারে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ‘ফার্স’-এর মতে, হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে কিছু সম্পদ ফেরাতে সম্মত হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি, নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়ে বিশেষ শর্তাবলি যুক্ত থাকতে পারে।
বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব কি?
বিশেষজ্ঞদের মতে, চুক্তিটি কার্যকর হলে ইরান এই অর্থ নিজেদের ভঙ্গুর অর্থনীতি শক্তিশালী করতে এবং তেল শিল্পে বিনিয়োগের জন্য ব্যবহার করবে। তবে এটি চীন, জাপানসহ সেই ৮টি দেশের ব্যাংকিং ও জ্বালানি কৌশলের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে, যেখানে ইরানের অর্থ আটকে আছে।
নিষেধাজ্ঞা শিথিল হলে এই দেশগুলোকে তাদের অর্থনৈতিক নীতিতে বড় পরিবর্তন আনতে হবে। যদিও কোনো দেশ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে তহবিল হস্তান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত করেনি, তবে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে তা আগামী দিনে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।