তৃণমূলের অন্দরে বড় ফাটল! ৫০ বিধায়ক ও ২০ সাংসদ বিজেপিতে যোগ দিতে প্রস্তুত! দাবি সৌমিত্র খাঁ-র

রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসে নজিরবিহীন অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বুধবার বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ-র একটি মন্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক পারদ চড়িয়ে দিয়েছে। তাঁর দাবি, তৃণমূলের প্রায় ৫০ জন বিধায়ক দলের ওপর ক্ষুব্ধ এবং ২০ জন সাংসদ বিজেপিতে যোগদানের অপেক্ষায় রয়েছেন।
সৌমিত্র খাঁ-র সুনির্দিষ্ট ‘সংখ্যাতত্ত্ব’
সৌমিত্র খাঁ বলেন, “বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব একবার সবুজ সংকেত দিলেই তৃণমূল রাজনৈতিকভাবে শেষ হয়ে যাবে।” রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দলত্যাগ বিরোধী আইন এড়াতে অন্তত ২০ জন সাংসদের প্রয়োজন হয়। সৌমিত্রর এই নির্দিষ্ট সংখ্যাটি তাই তাৎপর্যপূর্ণ। যদিও এই দাবিকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা ও অপপ্রচার’ বলে খারিজ করে দিয়েছেন বর্ষীয়ান তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়।
কাকলি ঘোষ দস্তিদারের ভূমিকা ও নিরাপত্তা
তৃণমূলের এই অস্থিরতাকে আরও উসকে দিয়েছে বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড। মুখ্য সচেতকের পদ থেকে অপসারিত হওয়ার পর বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠকে তাঁর উপস্থিতি এবং পরবর্তী সময়ে কেন্দ্রের থেকে তাঁর ‘ওয়াই’ ক্যাটাগরির নিরাপত্তা পাওয়া নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। একেই অনেকে তৃণমূলে বড়সড় ভাঙনের পূর্বাভাস হিসেবে দেখছেন।
পুরবোর্ডগুলিতে ‘গণ-ইস্তফা’-র ধুম
শুধু বিধায়ক বা সাংসদরাই নন, তৃণমূলের ভিত নড়েছে স্থানীয় স্তরেও। গত সপ্তাহে দুর্নীতি ও তোলাবাজির অভিযোগে ৩ জন কাউন্সিলর গ্রেফতার হওয়ার পরই রাজ্যের বিভিন্ন পুরসভায় শুরু হয়েছে গণ-ইস্তফা।
পরিসংখ্যান: বিভিন্ন পুরসভা মিলিয়ে প্রায় ১০০ জন কাউন্সিলর ইস্তফা দিয়েছেন।
সরকারের পদক্ষেপ: পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়েছেন, কাউন্সিলরদের অনুপস্থিতিতে জনপরিষেবা বজায় রাখতে রাজ্য সরকার সরকারি প্রশাসক নিয়োগ করছে।
নেত্রীর আর্জি: অন্যদিকে, দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কাউন্সিলরদের ইস্তফা না দেওয়ার জন্য প্রকাশ্য আরজি জানিয়েছেন। মেয়র ফিরহাদ হাকিমের পদত্যাগের ইচ্ছাপ্রকাশের গুঞ্জনও তৃণমূল শিবিরে বড় ধাক্কা দিয়েছে।
তৃণমূল নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ‘বুলডোজার’ হুঙ্কার
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করে সৌমিত্র খাঁ জানান, পাপের প্রায়শ্চিত্ত করতেই হবে। এই রাজনৈতিক চাপানউতোরের মধ্যে রাজ্যে পুরবোর্ডগুলির আর্থিক অনিয়মের তদন্তে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন প্রশাসন কঠোর অবস্থান নেওয়ায় তৃণমূলের সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে।
আগামী কয়েকদিন এই ভাঙন ও দলবদলের রাজনীতিতে রাজ্য রাজনীতি কোন মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।