স্ত্রী কি বাড়ির পরিচারিকা? ঘরোয়া কাজ না করায় ডিভোর্স নয়, ঐতিহাসিক রায় হাইকোর্টের

বিবাহিত জীবনে স্ত্রী কি কেবল গৃহস্থালির কাজ করার জন্যই? এই পুরনো ধ্যান-ধারণার বিরুদ্ধে বড়সড় রায় দিল বম্বে হাইকোর্ট। আদালতের পর্যবেক্ষণ, বিয়ের সম্পর্ক কোনো ‘সার্ভিস কন্ট্রাক্ট’ বা পরিষেবা চুক্তি নয়, এটি দুই ব্যক্তির সমতার ভিত্তিতে গড়া অংশীদারিত্ব।
মামলার প্রেক্ষাপট
২০০২ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া এক দম্পতির মধ্যে বিয়ের কয়েকদিনের মধ্যেই মনোমালিন্য শুরু হয়। ২০০৪ সালে স্বামী মুম্বই ফ্যামিলি কোর্টে ডিভোর্সের আবেদন করেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, স্ত্রী তাঁর সঙ্গে নিষ্ঠুর আচরণ করেছেন, বাড়ির কাজ (রান্না বা সাফাই) করতে অস্বীকার করেছেন এবং শ্বশুরবাড়ির কথা শোনেননি। ফ্যামিলি কোর্ট সেই সময় স্বামীর অভিযোগকে মান্যতা দিয়ে ডিভোর্স মঞ্জুর করে এবং স্ত্রীর খোরপোশের আবেদন খারিজ করে দেয়। স্ত্রী সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বম্বে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন।
আদালতের পর্যবেক্ষণ
বম্বে হাইকোর্টের বিচারপতি ভারতী দাঙ্গরে ও বিচারপতি মঞ্জুশা দেশপাণ্ডের ডিভিশন বেঞ্চ এই মামলাটির শুনানিতে অত্যন্ত স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে:
নিষ্ঠুরতা নয়: স্ত্রী রান্না করতে না পারা, ঘর পরিষ্কার না করা বা শ্বশুরবাড়ির কথা না শোনা—এগুলোকে কোনোভাবেই ‘মানসিক অত্যাচার’ বা ‘নিষ্ঠুরতা’ (Cruelty) হিসেবে গণ্য করা যায় না।
সমান অধিকার: আদালত সাফ জানিয়েছে, বিয়ে মানেই স্ত্রী বাড়ির কাজের দাসী নন। বিয়ে হলো দুই পার্টনারের সমান অংশীদারিত্ব।
রায়ের বাস্তবায়ন: হাইকোর্ট ফ্যামিলি কোর্টের আগের রায় খারিজ করে দিয়েছে। সেই সঙ্গে আদালত প্রাক্তন স্বামীকে নির্দেশ দিয়েছে, ওই মহিলাকে প্রতি মাসে [২০ হাজার টাকা] খোরপোশ হিসেবে প্রদান করতে হবে।
কেন এই রায় তাৎপর্যপূর্ণ?
দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক আদালতে ঘরোয়া কাজ সংক্রান্ত বিষয়কে কেন্দ্র করে বিচ্ছেদের আবেদন জানানো হতো। এই রায়ের ফলে এটি স্পষ্ট হলো যে, গার্হস্থ্য কাজ কোনো একক ব্যক্তির দায়বদ্ধতা নয়। এই রায় পরোক্ষভাবে দাম্পত্য জীবনে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমতা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তাকে আরও জোরালো করল।