ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া মানেই নাগরিকত্ব হারানো নয়! ঐতিহাসিক রায় সুপ্রিম কোর্টের

ভারতের ভোটার তালিকার ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে তৈরি হওয়া দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির বেঞ্চ স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, ভোটার তালিকা থেকে কোনো ব্যক্তির নাম বাদ পড়া মানেই তিনি তাঁর নাগরিকত্ব হারালেন—এমনটা মোটেও নয়।

সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক পর্যবেক্ষণ:
আদালত এই রায়ে দুটি মূল বিষয়ের ওপর আলোকপাত করেছে:
১. সীমিত অধিকার: নির্বাচন কমিশন কোনো ব্যক্তির নাগরিকত্ব যাচাই করতে পারে, তবে তা শুধুমাত্র ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির যোগ্যতার নিরিখে। এটি কোনোভাবেই নাগরিকত্ব নির্ধারণের প্রক্রিয়া নয়।
২. নাগরিকত্বের সঙ্গে সংযোগহীন: আদালত জানিয়েছে, এসআইআর প্রক্রিয়ায় নাম বাদ যাওয়া মানেই ওই ব্যক্তি ভারতের নাগরিক নন, এমনটা ধরে নেওয়ার কোনো কারণ নেই।

কেন্দ্রকে নির্দেশ ও সুরক্ষাকবচ:
আদালত নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছে যে, যেসব ভোটারের নাগরিকত্ব নিয়ে সন্দেহ রয়েছে এবং যাদের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, সেই তালিকা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে পাঠাতে হবে।

সময়সীমা: আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে এই তালিকা উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাতে হবে।

নাগরিকত্বের যাচাই: ‘নাগরিকত্ব আইন, ১৯৫৫’ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই দাবিগুলি খতিয়ে দেখবে।

অধিকার: সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে অবশ্যই আগে নোটিশ দিয়ে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হবে।

পুনর্বহাল: যাচাইয়ের পর কোনো ব্যক্তি যদি নাগরিক হিসেবে প্রমাণিত হন, তবে তাঁর নাম ভোটার তালিকায় অবিলম্বে পুনরায় যুক্ত করতে হবে।

কেন এই রায় গুরুত্বপূর্ণ?
বিহারে চালু হওয়া এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধী দলগুলির অন্যতম বড় আপত্তি ছিল যে, নির্বাচন কমিশন বা ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া যেন পরোক্ষভাবে নাগরিকত্ব যাচাইয়ের হাতিয়ার হয়ে না ওঠে। সুপ্রিম কোর্ট এই রায়ের মাধ্যমে নিশ্চিত করল যে, নির্বাচনী সংস্থা হিসেবে নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে পারলেও, চূড়ান্ত নাগরিকত্ব নির্ধারণের ক্ষমতা কেবল আইনের অধীনে গঠিত নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষেরই থাকবে।

সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশে আতঙ্কিত বহু সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তির ছোঁয়া লেগেছে। ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে নাগরিকত্বের আইনি জটিলতা থেকে বাঁচতে আদালতের এই পর্যবেক্ষণ অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক বলে মনে করছেন আইনজ্ঞরা।