ধুঁকছে মেসির ৪৪ ফুটের মূর্তি! যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা, আতঙ্কিত লেকটাউন

লেকটাউন মোড়ের ৪৪ ফুটের সুবিশাল মেসির মূর্তিকে ঘিরে এখন তীব্র আতঙ্ক। হালকা দমকা হাওয়ায় মূর্তিটি দুলতে থাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা আশঙ্কায় প্রহর গুনছেন। যেকোনো মুহূর্তে বড়সড় দুর্ঘটনার আশঙ্কায় মঙ্গলবার রাতেই মূর্তিটিকে দড়ি দিয়ে বেঁধেছে পূর্ত দফতর (PWD)। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে আশেপাশের রাস্তা ও যান চলাচল।

কেন তৈরি হলো এই আতঙ্ক?
৪‌৪ ফুটের এই বিশাল মূর্তিটি বাতাসের ঝাপটায় দুলতে থাকায় তা ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে মূর্তিটির কোমরের নিচ থেকে মোটা নাইলনের দড়ি দিয়ে চারপাশের মজবুত স্ট্রাকচারের সঙ্গে শক্ত করে বেঁধে দেওয়া হয়েছে। পিডব্লিউডি-র ইঞ্জিনিয়ারদের মতে, এই অবস্থায় মূর্তিটি জনবহুল এলাকায় রাখা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

সরানো কি সহজ?
বুধবারই বিশেষজ্ঞরা মূর্তিটি পরিদর্শনে আসবেন। এরপরই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে সূত্রের খবর, মূর্তিটিকে অক্ষত অবস্থায় নামিয়ে ফেলার পরিকল্পনা রয়েছে প্রশাসনের। কিন্তু পূর্ত দফতরের ইঞ্জিনিয়ারদের মতে, লেকটাউনের মতো জনবহুল এলাকায়, যেখানে পাশে সাবওয়ে এবং সবসময় গাড়ি চলাচল করে, সেখানে বড় ক্রেন এনে এত বিশাল একটি মূর্তি সরানো প্রযুক্তিগতভাবে বড়সড় চ্যালেঞ্জ। একটু এদিক-ওদিক হলেই ঘটতে পারে বড় বিপদ।

এলাকাবাসীর বক্তব্য
স্থানীয়রা এখন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। এক বাসিন্দা বলেন, “দড়ি দিয়ে বাঁধার ফলে এখন সাময়িক স্বস্তি থাকলেও, এই অবস্থায় মূর্তি রাখা উচিত নয়। আমাদের দাবি, হয় এর স্থায়ী মেরামতি হোক, নতুবা একে সরিয়ে ফেলা হোক।” অপর এক বাসিন্দার মতে, “মাথার ওপর বিপদ নিয়ে থাকা সম্ভব নয়, দ্রুত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার।”

বর্তমানে মূর্তিটির সামনের মাঠ ও পিছনের রাস্তার একাংশ বাঁশের ব্যারিকেড দিয়ে আটকে দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞ দলের পরিদর্শনের পরেই সিদ্ধান্ত হবে মেসির মূর্তিটি এখানে থাকবে, না কি সরিয়ে ফেলা হবে। এখন দেখার বিষয়, প্রশাসন এই অতিকায় মূর্তিটিকে সুরক্ষিতভাবে সরাতে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।