দেশের জনবিন্যাসে কি বড় বিপদ? ‘অস্বাভাবিক’ বদল রুখতে বড় পদক্ষেপ কেন্দ্রের,

দেশের জনবিন্যাস বা ডেমোগ্রাফি (Demography)-তে ‘অস্বাভাবিক পরিবর্তন’ এবং সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে অবৈধ অনুপ্রবেশের ক্রমবর্ধমান সমস্যা মোকাবিলায় এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ করল কেন্দ্রীয় সরকার। মঙ্গলবার এই বিষয়ে বড় ঘোষণা করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও সামাজিক ভারসাম্য রক্ষায় একটি উচ্চপর্যায়ের ‘হাই-লেভেল কমিটি অন ডেমোগ্রাফিক চেঞ্জ’ গঠন করা হয়েছে।

কমিটির নেতৃত্বে কে? এই গুরুত্বপূর্ণ কমিটির সভাপতিত্ব করবেন সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি প্রকাশ প্রভাকর নাওলেকর

কমিটির সদস্যবৃন্দ: অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের নিয়ে গঠিত এই কমিটিতে থাকছেন:

  • ভারতের জনগণনা কমিশনার (Census Commissioner)।

  • দুর্গাশঙ্কর মিশ্র (অবসরপ্রাপ্ত আইএএস অফিসার)।

  • বালাজি শ্রীবাস্তব (অবসরপ্রাপ্ত আইপিএস অফিসার)।

  • ডঃ শমিকা রবি (অর্থনীতিবিদ)।

  • স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের ‘ফরেনার্স-১’ বিভাগের যুগ্মসচিব এই কমিটির সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

কেন এই কমিটির প্রয়োজনীয়তা? গত বছরের ১৫ আগস্ট স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই কমিটি গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং অন্যান্য অস্বাভাবিক কারণে জনবিন্যাসের যে পরিবর্তন ঘটছে, তা দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ।

কমিটির মূল লক্ষ্য: ১. বৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন: দেশজুড়ে জনবিন্যাসের পরিবর্তনের ধরন, কারণ ও এর প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত ও বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ করা। ২. সামাজিক ভারসাম্য: বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রদায়ের জনসংখ্যার অস্বাভাবিক পরিবর্তনের ধারা খতিয়ে দেখা। ৩. পরিকল্পিত সমাধান: এই সমস্যার স্থায়ী ও সময়বদ্ধ সমাধান খুঁজে বের করে কেন্দ্রের কাছে সুপারিশ পেশ করা। ৪. জাতীয় নিরাপত্তা: আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, সামাজিক কাঠামো বজায় রাখা এবং আদিবাসী সমাজের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: দীর্ঘদিন ধরেই অনুপ্রবেশের ফলে পশ্চিমবঙ্গের মতো সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলোর জনবিন্যাস বদলে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করে আসছিল কেন্দ্র। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের দাবি, এই পরিবর্তন শুধু নিরাপত্তার খাতিরেই নয়, স্থানীয় সম্পদের বণ্টন ও সামাজিক সংহতির ক্ষেত্রেও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই কমিটি গঠনের মাধ্যমে কেন্দ্র এখন এই বিষয়ে একটি সুনির্দিষ্ট এবং স্থায়ী প্রশাসনিক কাঠামো তৈরির দিকে এগোচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এই কমিটি সীমান্তবর্তী এলাকাগুলো থেকে শুরু করে শিল্পাঞ্চল পর্যন্ত ডেমোগ্রাফিক ট্রেন্ডের ওপর নিয়মিত নজরদারি চালাবে এবং অনুপ্রবেশ রোধে কার্যকরী নীতি প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।