অনুপ্রবেশের জেরে বদলাচ্ছে জনবিন্যাস? বড় পদক্ষেপ কেন্দ্রের, গঠন করা হলো উচ্চপর্যায়ের কমিটি

দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং জনবিন্যাস (Demographic) পরিবর্তন নিয়ে বড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্র। অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং অস্বাভাবিক কারণে দেশের জনসংখ্যার ভারসাম্য পরিবর্তনের যে অভিযোগ দীর্ঘদিনের, তা মোকাবিলায় এবার একটি ‘উচ্চপর্যায়ের কমিটি’ গঠন করল কেন্দ্রীয় সরকার। সোমবার রাতে খোদ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এক্স হ্যান্ডেলে এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছেন।
কমিটির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য: উল্লেখ্য, গত ২০২৫ সালের ১৫ আগস্ট স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জনবিন্যাস পরিবর্তনের বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন এবং এই সমস্যা মোকাবিলায় কমিটি গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, সেই প্রতিশ্রুতি মেনেই এবার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলো। এই কমিটির মূল লক্ষ্য হলো:
-
ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও অন্যান্য অস্বাভাবিক কারণে হওয়া জনবিন্যাস পরিবর্তনের বিস্তৃত মূল্যায়ন করা।
-
ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রদায়ভিত্তিক অস্বাভাবিক জনসংখ্যা পরিবর্তনের ধরণগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করা।
-
জাতীয় নিরাপত্তা, আইন-শৃঙ্খলা এবং জনজাতি সমাজের সুরক্ষার ওপর এর প্রভাব খতিয়ে দেখা।
-
এই সমস্যা সমাধানের জন্য একটি সুপরিকল্পিত ও সময়বদ্ধ রোডম্যাপ তৈরি করে কেন্দ্রকে জমা দেওয়া।
কারা থাকছেন এই কমিটিতে? কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, এই উচ্চপর্যায়ের কমিটির নেতৃত্ব দেবেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি প্রকাশ প্রভাকর নাওলেকর। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন:
-
দুর্গা শঙ্কর মিশ্র (অবসরপ্রাপ্ত IAS কর্মকর্তা)
-
বালাজি শ্রীবাস্তব (অবসরপ্রাপ্ত IPS কর্মকর্তা)
-
ড. শমিকা রবি (অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞ)
-
জনগণনা কমিশনার (পদাধিকারবলে) এছাড়া, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের ‘ফরেনার্স-I’ বিভাগের যুগ্ম সচিব এই কমিটির সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
অমিত শাহের বার্তা: এক্স হ্যান্ডেলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ লিখেছেন, “অস্বাভাবিক জনবিন্যাস পরিবর্তন যেকোনো দেশের বর্তমান ও ভবিষ্যতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এটি কেবল সার্বভৌমত্ব নয়, বরং জাতীয় নিরাপত্তা এবং সামাজিক কাঠামোর সঙ্গেও গভীরভবে জড়িত।”
রাজনৈতিক মহলের মতে, লোকসভা নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে এই কমিটি গঠনের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশজুড়ে জনবিন্যাস নিয়ে যে বিতর্ক রয়েছে, এই কমিটির রিপোর্ট সেই বিতর্কের প্রেক্ষিতে বড় কোনো আইনি বা প্রশাসনিক পরিবর্তনের ভিত্তি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।