দেশের জনসংখ্যা বদলে যাচ্ছে? ‘ডেমোগ্রাফিক চেঞ্জ’ রুখতে বড় পদক্ষেপ অমিত শাহের, গঠন উচ্চপর্যায়ের কমিটি!

দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও সামাজিক ভারসাম্য বজায় রাখতে এবার বড়সড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্রীয় সরকার। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ‘অস্বাভাবিক জনসংখ্যাগত পরিবর্তন’ (Demographic Change) বা ডেমোগ্রাফি চেঞ্জের ঘটনাগুলি খতিয়ে দেখতে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
কেন এই কমিটি? মঙ্গলবার সোশ্যাল মিডিয়ায় এক বার্তায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, অবৈধ অনুপ্রবেশ ও অস্বাভাবিক জনসংখ্যাগত পরিবর্তন ভারতের বর্তমান ও ভবিষ্যতের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এটি শুধুমাত্র সংখ্যার বিষয় নয়, বরং দেশের সার্বভৌমত্ব, জাতীয় নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত। সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলোতে স্থানীয় জনসংখ্যার গঠন পরিবর্তনের যে অভিযোগ দীর্ঘদিনের, তা বিশ্লেষণ করাই এই কমিটির মূল লক্ষ্য।
কমিটির নেতৃত্বে কারা? প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ঘোষণার প্রেক্ষিতে গঠিত এই বিশেষ কমিটিতে রাখা হয়েছে দক্ষ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের:
-
সভাপতি: অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি প্রকাশ প্রভাকর নাওলেকর।
-
সদস্য: প্রাক্তন আইএএস অফিসার দুর্গাশঙ্কর মিশ্র, প্রাক্তন আইপিএস অফিসার বালাজি শ্রীবাস্তব এবং বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ডঃ শমিকা রবি।
-
সদস্য সচিব: কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের জয়েন্ট সেক্রেটারি (Foreigners-I)।
কী কাজ করবে এই কমিটি? ১. দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রদায়ের ভিত্তিতে জনসংখ্যার অস্বাভাবিক পরিবর্তনের ধরণ বিশ্লেষণ করা। ২. পরিবর্তনের পেছনে থাকা প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করা। ৩. এই সমস্যার স্থায়ী ও পরিকল্পিত সমাধানের জন্য সময়বদ্ধ রিপোর্ট তৈরি করা।
রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক: কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে বিজেপি। তাঁদের দাবি, দীর্ঘদিনের এই প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ দেশের নিরাপত্তার জন্য জরুরি। অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলির একাংশের মতে, এই ইস্যুকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হতে পারে। তাঁরা এও মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, দেশের বহুত্ববাদী সামাজিক কাঠামো রক্ষার পাশাপাশি তথ্যের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করাও জরুরি।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রথমবারের মতো কেন্দ্র সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের মতো একটি স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে বিশ্লেষণের উদ্যোগ নিয়েছে, যা ভবিষ্যতে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।