ধর্ষণ মামলায় সাজাপ্রাপ্ত রাম রহিমের ফের মুক্তি! জেলের বাইরে ১৬ বার, কেন বারবার এই বিশেষ সুবিধা?

ফের জেলের বাইরে ‘ডেরা সাচা সওদা’ প্রধান গুরমীত রাম রহিম সিংহ। দুই মহিলা শিষ্যকে ধর্ষণের দায়ে ২০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত রাম রহিমকে আবারও ৩০ দিনের প্যারোল মঞ্জুর করেছে হরিয়ানা সরকার। ২০১৭ সালে কারাবাসের পর এই নিয়ে মোট ১৬তম বারের মতো জেলের বাইরে আসার অনুমতি পেলেন এই বিতর্কিত ধর্মগুরু।
মঙ্গলবার সকালে রোহতকের সুনারিয়া জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি সরাসরি সিরসায় ডেরা সাচা সওদার সদর দপ্তরে গিয়েছেন। সেখানেই প্যারোলের পুরো সময়টা তিনি কাটাবেন বলে জানিয়েছেন তাঁর আইনজীবী জিতেন্দ্র খুরানা।
কেন বারবার বিতর্কে রাম রহিমের প্যারোল? সাধারণ বন্দিদের তুলনায় রাম রহিমের বারবার প্যারোলে মুক্তি পাওয়া নিয়ে দেশজুড়ে রাজনৈতিক ও আইনি মহলে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে নির্বাচনের ঠিক আগে বা গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তাঁর এই ধরনের মুক্তি নিয়ে উঠেছে বড় প্রশ্ন।
-
বিরোধী শিবিরের অভিযোগ: শিরোমণি অকালি দলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল হরিয়ানার বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে ‘দ্বিচারিতা’র অভিযোগ তুলেছে। বিরোধীদের মতে, প্রভাবশালী বলেই রাম রহিমের ক্ষেত্রে নিয়ম শিথিল করা হচ্ছে।
-
বিচারব্যবস্থার ওপর প্রভাব: শিরোমণি গুরুদ্বার প্রবন্ধক কমিটি (এসজিপিইউ) সরাসরি দেশের বিচারব্যবস্থার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। সমালোচকদের মতে, সাধারণ নাগরিক এবং প্রভাবশালীদের জন্য দেশের আইন আলাদা হওয়া উচিত নয়। এভাবে চলতে থাকলে বিচারব্যবস্থার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা টলে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন অনেকে।
আইনি অবস্থান: হরিয়ানা পুলিশের ডিজির বক্তব্য অনুযায়ী, পুরো বিষয়টি জেল কর্তৃপক্ষ এবং কারা বিভাগের আইনি প্রক্রিয়ার ওপর ভিত্তি করেই সম্পন্ন হয়েছে। ডেরা কর্তৃপক্ষের দাবি, আইনের নিয়ম মেনেই তাঁদের প্রধানকে এই সুবিধা দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের মার্চ মাসে সাংবাদিক রামচন্দ্র ছত্রপতি হত্যা মামলা থেকে রাম রহিমকে বেকসুর খালাস দিয়েছিল পঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্ট। ধর্ষণ মামলায় সাজা কাটলেও, বারবার তাঁর এভাবে জেলের বাইরে চলে আসা নিয়ে বিতর্ক থামার কোনো লক্ষণ নেই।