আইনি ফাঁসে জাহাঙ্গির! রক্ষাকবচ খারিজ কলকাতা হাইকোর্টের, গ্রেফতারি কি সময়ের অপেক্ষা?

ফলতা বিধানসভার সাম্প্রতিক ঘটনাক্রম ও পুনর্নির্বাচনের আবহে বড়সড় আইনি সংকটে পড়লেন তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খান। মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টের গ্রীষ্মকালীন অবকাশকালীন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিল, এই মুহূর্তে তাঁকে আর কোনো অন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষা বা ‘রক্ষাকবচ’ দেওয়া হবে না। এই নির্দেশের ফলে ওই নেতার গ্রেফতারির জল্পনা এখন তুঙ্গে।
কী জানাল আদালত? মঙ্গলবার বিচারপতি পার্থ সারথি সেনের বেঞ্চে শুনানি চলাকালীন রাজ্যের পক্ষ থেকে অ্যাডিশনাল অ্যাডভোকেট জেনারেল (এএজি) রাজদীপ মজুমদার জাহাঙ্গির খানের বিরুদ্ধে থাকা সাতটি এফআইআর-এর তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, নির্বাচনের আগে রক্ষাকবচ দেওয়া হলেও, পুলিশি তলবে বারবার গরহাজির ছিলেন ওই নেতা। রাজ্যের জমা দেওয়া রিপোর্টে প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সপক্ষে তথ্যপ্রমাণ রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বিচারপতি সাফ জানান, যেহেতু এটি গ্রীষ্মকালীন অবকাশকালীন বেঞ্চ, তাই তিনি মামলাটি ফের ‘রেগুলার বেঞ্চে’ শুনানির জন্য পাঠাচ্ছেন, কিন্তু নতুন করে কোনো সুরক্ষাকবচ দেওয়া সম্ভব নয়।
জাহাঙ্গিরের আইনি লড়াই: এর আগে ১৮ মে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য জাহাঙ্গির খানকে ২৬ মে পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সুরক্ষাকবচ দিয়েছিলেন। সেই সময় তিনি তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী ময়দানে ছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা করেন। এদিন আদালতে তাঁর আইনজীবী কিশোর দত্ত রক্ষাকবচের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন জানালেও, রাজ্যের তীব্র আপত্তির মুখে আদালত তা নাকচ করে দেয়।
রাজনৈতিক চাপানউতোর: ফলতা কেন্দ্র থেকে বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু ভট্টাচার্যের বিপুল ভোটে জয়ের পর থেকেই এই এলাকা নিয়ে রাজনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে। এদিকে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের ‘ঘনিষ্ঠ’ হিসেবে পরিচিত জাহাঙ্গির খানের বিরুদ্ধে ওঠা সাতটি এফআইআর এবং বর্তমান আইনি পরিস্থিতিতে ঘাসফুল শিবির যে বড়সড় অস্বস্তিতে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এখন দেখার বিষয়, আগামী দিনে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে গিয়ে এই তৃণমূল নেতা কী পদক্ষেপ নেন।