পুরসভায় কি ফুরিয়ে গেল তৃণমূলের দিন? কাউন্সিলরদের পদত্যাগের মিছিলে চরম সংকটে মমতা-অভিষেক!

বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যে রাজনৈতিক সমীকরণ দ্রুত পাল্টাচ্ছে। গত ৪ মে নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর এক মাসেরও কম সময়ে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে যে ভাঙন দেখা দিয়েছে, তা অভূতপূর্ব। ইতিমধ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন পুরসভা থেকে ১০০-রও বেশি কাউন্সিলর ইস্তফা দিয়েছেন, যা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে জোর শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
কোথায় কতটা ভাঙন? কাউন্সিলরদের পদত্যাগের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ভাটপাড়া (৩০ জন), গারুলিয়া (১৮ জন), হালিসহর (১৬ জন), উত্তর ব্যারাকপুর (১৫ জন), কন্টাই (১৪ জন) এবং ডায়মন্ড হারবার (৮ জন)। বিশেষ করে তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ডায়মন্ড হারবারেও বড় ধস নামায় দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কপালে চিন্তার ভাঁজ।
কেন এই গণপদত্যাগ? রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, শুধু বিধানসভা নির্বাচনে হারের নৈতিক দায় নয়, বরং সরকার পরিবর্তনের সাথে সাথে দলের ভেতরের ‘সিন্ডিকেট রাজ’, তোলাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার ফলেই কাউন্সিলরদের মধ্যে এই আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়েছেন, বেশ কিছু কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, যার ফলে অনেকেই ইস্তফাকে ‘নিরাপদ উপায়’ হিসেবে বেছে নিচ্ছেন।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী? এদিকে, পরিস্থিতি সামাল দিতে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলীয় কাউন্সিলরদের নিয়ে জরুরি বৈঠক ডাকলেও, সূত্রের খবর, অনেক কাউন্সিলরই তাতে গরহাজির থেকেছেন। অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, হাওড়া এবং বালি সহ অন্যান্য পুরসভাগুলিতে দ্রুত নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হবে। ডিসেম্বরের মধ্যে হাওড়ায় ১৩ বছর পর নির্বাচন আয়োজনের ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
তৃণমূলের সংগঠনের এই ‘কঙ্কালসার’ দশা এবং একের পর এক কাউন্সিলরের পদত্যাগে ঘাসফুল শিবিরের রাশ যে কার্যত হাত থেকে ফসকে যাচ্ছে, তা এখন দিনের আলোর মতো পরিষ্কার। এই ঘটনাপ্রবাহ রাজ্যের পৌর-রাজনীতিতে আগামী দিনে আরও বড় কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত কি না, তা নিয়ে এখন চলছে জোর জল্পনা।