জনসংখ্যার ‘অস্বাভাবিক’ বদল রুখতে বড় পদক্ষেপ কেন্দ্রের! অমিত শাহের নির্দেশে গঠন উচ্চ পর্যায়ের কমিটি

দেশের নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে জনসংখ্যার পরিবর্তন বা ‘ডেমোগ্রাফিক চেঞ্জ’ (Demographic Change) রুখতে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ গ্রহণ করল কেন্দ্র। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ মঙ্গলবার ঘোষণা করলেন, ভারতের জনসংখ্যার অস্বাভাবিক বদল খতিয়ে দেখার জন্য একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কেন এই কমিটি? ২০২৫ সালের স্বাধীনতা দিবসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই কমিটি গঠনের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এক্স হ্যান্ডেলে জানিয়েছেন, অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং অন্যান্য অস্বাভাবিক কারণে জনসংখ্যার যে বিন্যাসগত পরিবর্তন ঘটছে, তা দেশের বর্তমান ও ভবিষ্যতের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতেই সরকার এখন এই প্যানেল গঠনের আনুষ্ঠানিক সূচনা করল।
কমিটির নেতৃত্বে কারা? সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি প্রকাশ প্রভাকর নাগোলেকর এই কমিটির নেতৃত্ব দেবেন। কমিটির অন্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন—
-
সেন্সাস কমিশনার।
-
প্রাক্তন আইএএস অফিসার দুর্গা শঙ্কর মিশ্র।
-
প্রাক্তন আইপিএস অফিসার বালাজি শ্রীবাস্তব।
-
অর্থনীতিবিদ শামিকা রবি।
-
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব (ফরেনার্স-১) কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
প্যানেলের প্রধান কাজ: এই কমিটি সারা দেশে জনসংখ্যার পরিবর্তনের একটি বিস্তারিত মূল্যায়ন করবে। অমিত শাহের কথায়, “এই বিষয়টি শুধুমাত্র সার্বভৌমত্বের সঙ্গেই যুক্ত নয়, এটি দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং আদিবাসী সমাজকে সুরক্ষিত রাখার মতো গুরুতর বিষয়গুলির সঙ্গে জড়িত।” কমিটি ধর্মীয় ও সামাজিক স্তরে জনসংখ্যার অস্বাভাবিক পরিবর্তনের ধরন বিশ্লেষণ করবে এবং সেই অনুযায়ী নীতিগত সমাধান খুঁজে বের করে সরকারের কাছে রিপোর্ট জমা দেবে।
সরকার স্পষ্ট করেছে যে, দেশের অখণ্ডতা এবং সামাজিক কাঠামো রক্ষা করাই এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক গবেষণার মাধ্যমে অনুপ্রবেশ ও অস্বাভাবিক জনসংখ্যার বৃদ্ধির মতো বিষয়গুলিকে চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়াই এই নতুন প্যানেলের প্রধান চ্যালেঞ্জ।