তেলের দামে আগুন! ইরানে মার্কিন হামলার পরই ব্যারেলপ্রতি ৯৯ ডলার ছাড়াল ব্রেন্ট ক্রুড

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে যেন ‘রোলার কোস্টার’ পরিস্থিতি। মাত্র একদিন আগে বড় ধরনের দরপতনের পর, মঙ্গলবার থেকেই তেলের দামে নতুন করে অস্থিরতা শুরু হয়েছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনার আঁচ পড়তে শুরু করেছে বিশ্বজুড়ে।
বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি:
মঙ্গলবার বৈশ্বিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৯ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। অন্যদিকে, ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI)-এর দাম পৌঁছেছে ৯২ ডলারে। এর প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়েছে ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারেও। মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জে (MCX) অপরিশোধিত তেলের দাম ১.৯০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ৮,৭৭৯ রুপিতে দাঁড়িয়েছে।
কেন হঠাৎ এই মূল্যবৃদ্ধি?
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, সোমবার পর্যন্ত তেলের দাম কমার পেছনে ছিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইতিবাচক সুর। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এবং সমুদ্রপথে মাইন বিছানোর নৌকায় মার্কিন বাহিনীর নতুন করে হামলার ঘটনায় পরিস্থিতি পুরোপুরি বদলে গেছে। এই উত্তেজনার ফলে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার যে আশা তৈরি হয়েছিল, তা এখন অনিশ্চয়তার মুখে।
আলোচনায় বাধা কোথায়?
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার বিষয়ে যে আলোচনা চলছিল, তা এখন থমকে গেছে। প্রধান বাধাগুলো হলো:
পারমাণবিক বিতর্ক: ওয়াশিংটন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি হয় সম্পূর্ণ ধ্বংস করতে হবে, নয়তো তা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করতে হবে।
কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ: ইরান হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ওপর তাদের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে চায়, যা যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের কাছে অগ্রহণযোগ্য।
সামরিক হুঁশিয়ারি: ট্রাম্প প্রশাসন হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, আলোচনা সফল না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
ভারতের ওপর প্রভাব:
ভারত তার তেলের চাহিদার একটি বড় অংশ বিদেশ থেকে আমদানি করে। ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৯ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়া মানে, ভারতের আমদানিকৃত জ্বালানির খরচ বহুগুণ বেড়ে যাওয়া। এর ফলে ভবিষ্যতে পেট্রোল-ডিজেলের খুচরো বাজারেও মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিশ্বের প্রধান তেল সরবরাহকারী পথ হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে এই নতুন ‘শীতল যুদ্ধ’ কতদূর গড়ায়, সেদিকেই এখন নজর রয়েছে বিনিয়োগকারী ও সাধারণ মানুষের।