‘সরকার নিজেই অপরাধী!’ ভুয়া এনকাউন্টার নিয়ে যোগী প্রশাসনকে নিশানা অখিলেশ যাদবের

উত্তরপ্রদেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং রাজ্য সরকারের কার্যপদ্ধতি নিয়ে ফের সরব সমাজবাদী পার্টির জাতীয় সভাপতি অখিলেশ যাদব। মঙ্গলবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে ‘ভুয়া এনকাউন্টার’ এবং ‘বুলডোজার রাজনীতি’-র অভিযোগ তুলে তীব্র আক্রমণ শানান তিনি।
কী অভিযোগ অখিলেশের? সংবাদ সম্মেলনে অখিলেশ যাদব সরাসরি অভিযোগ করেন যে, বিজেপি সরকার উত্তরপ্রদেশে নিজেদের খেয়ালখুশিমতো এনকাউন্টার চালাচ্ছে। তাঁর কথায়, “যিনি এনকাউন্টার করছেন, তিনি অপরাধী। এটি আইনের শাসন নয়, বরং ক্ষমতার অপব্যবহার।” অখিলেশের দাবি, রাজ্যে জাতি ও ধর্মের ভিত্তিতে এনকাউন্টার করা হচ্ছে এবং বুলডোজার দিয়ে বিচারের নামে আসলে নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠী বা জাতপাতকে টার্গেট করা হচ্ছে।
২০২০-এর স্মৃতি ও উদ্বেগ: হাথরসের ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে অখিলেশ বলেন, “২০২০ সালে ওই তরুণীর সঙ্গে যা ঘটেছিল, ২০২৬ সালেও রাজ্যের পরিস্থিতি একই জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে। সরকার সত্য গোপনের জন্য সব ধরনের চেষ্টা চালাচ্ছে এবং জনগণের কণ্ঠরোধ করছে।”
মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টির ষড়যন্ত্র: ভুয়া এনকাউন্টারকে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে এক গভীর ষড়যন্ত্র হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন এসপি প্রধান। তাঁর মতে:
-
আইনের শাসন অস্বীকার: এই ধরনের এনকাউন্টার সংবিধানের দেওয়া সামাজিক ন্যায়বিচারকে পুরোপুরি উপেক্ষা করছে।
-
ভয় দেখানো: বিজেপি সরকার পিডিএ (PDA) গোষ্ঠীকে ভয় দেখানোর একটি মাধ্যম হিসেবে এনকাউন্টারকে ব্যবহার করছে।
-
ব্যর্থ সরকারের লক্ষণ: অখিলেশের মতে, একটি ব্যর্থ সরকারই এনকাউন্টারের আশ্রয় নেয়। এর মাধ্যমে তারা জনগণের মনে ভয় বা ‘মানসিক চাপ’ সৃষ্টি করতে চায়।
সহিংসতার উস্কানি: অখিলেশ যাদব আরও বলেন, এনকাউন্টারের এই সংস্কৃতি সমাজে হিংসা উসকে দিচ্ছে। এটি গতানুগতিক সেই মানসিকতাকেই ফিরিয়ে আনছে যেখানে মনে করা হয়—’জোর যার, মুলুক তার’। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কোনো স্থান গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নেই, যদি না তা ব্যক্তিগত স্বার্থে বা প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে ব্যবহার করা হয়।
সবশেষে অখিলেশ দাবি করেন, এই ধরণের ‘ভুয়া এনকাউন্টার’ রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলার উন্নতি ঘটাচ্ছে না, বরং পরিস্থিতিকে আরও জটিল এবং বিপজ্জনক করে তুলছে। যোগী সরকারের বিরুদ্ধে অখিলেশের এই আক্রমণ আগামী দিনে উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতে বড় ধরনের উত্তাপ ছড়াবে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।