সিএনজি গাড়িতে এবার অটোমেটিক গিয়ারবক্স! আসছে নতুন টাটা টিয়াগো, জানুন বিশেষ ফিচার

সিএনজি গাড়ি মানেই এতদিন সাধারণ ম্যানুয়াল ট্রান্সমিশনের ধারণা ছিল। কিন্তু সেই গণ্ডি ভেঙে নতুন মাইলফলক গড়তে চলেছে টাটা মোটরস। আগামী ২৮ মে আনুষ্ঠানিকভাবে বাজারে আসতে চলেছে ‘২০২৬ টাটা টিয়াগো আইসিএনজি’। লঞ্চের আগেই সংস্থার প্রকাশিত টিজারে দেখা গেল এমন কিছু অত্যাধুনিক ফিচার, যা এই সেগমেন্টের গাড়িতে সচরাচর দেখা যায় না।
সবচেয়ে বড় চমক: প্যাডেল শিফটার ও অটোমেটিক গিয়ার
নতুন টিয়াগো আইসিএনজি-র সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হতে চলেছে এর ‘প্যাডেল শিফটার’ (Paddle Shifter)। টাটা পাঞ্চ আইসিএনজি-র পর টিয়াগোতেও এই প্রযুক্তি যুক্ত করা হচ্ছে। স্টিয়ারিংয়ের পিছনে থাকা এই লিভারের সাহায্যে চালকরা ক্লাচ বা গিয়ার লিভার স্পর্শ না করেই খুব সহজে গিয়ার পরিবর্তন করতে পারবেন। ফ্যাক্টরি-ফিটেড সিএনজি ও অটোমেটিক ট্রান্সমিশনের এই কম্বিনেশন ভারতের বাজারে টাটাকে অনেকটাই এগিয়ে রাখবে।
অভ্যন্তরীণ অন্দরসজ্জায় বড় পরিবর্তন
টিজার অনুযায়ী, নতুন টিয়াগোতে থাকছে:
বড় টাচস্ক্রিন ইনফোটেইনমেন্ট: সম্পূর্ণ নতুন ও বড় টাচস্ক্রিন ইউনিট।
ফ্লোটিং ইন্সট্রুমেন্ট ক্লাস্টার: আধুনিক ও প্রিমিয়াম লুকের ডিসপ্লে।
টু-স্পোক স্টিয়ারিং হুইল: মাল্টিফাংশন কন্ট্রোলসহ নতুন ডিজাইন।
রোটারি ড্রাইভ সিলেক্টর: প্রচলিত গিয়ার লিভারের বদলে নতুন লুক।
আধুনিক সুযোগ-সুবিধা: ৬৫ ওয়াটের টাইপ-সি ফাস্ট চার্জিং পোর্ট এবং দুটি ওয়্যারলেস স্মার্টফোন চার্জিং প্যাড।
বাইরের লুক ও সুরক্ষা
গাড়ির বাহ্যিক অবয়বেও আসছে বেশ কিছু পরিবর্তন। নতুন ফ্রন্ট গ্রিল, আপডেটেড হেডল্যাম্প, পরিমার্জিত বাম্পার এবং কালো রঙের ওআরভিএম (ORVM) গাড়িটিকে আরও প্রিমিয়াম লুক দেবে। সেই সঙ্গে চালকের সুবিধার জন্য ৩৬০-ডিগ্রি ক্যামেরা সিস্টেম যোগ করা হয়েছে, যা সরু রাস্তায় বা পার্কিংয়ের ক্ষেত্রে দারুণ কার্যকর হবে।
কেন এই গাড়ি গুরুত্বপূর্ণ?
টাটা মোটরস বর্তমানে ভারতের একমাত্র কোম্পানি যারা সিএনজি গাড়িতে অটোমেটিক ট্রান্সমিশনের সুবিধা দিচ্ছে। টিয়াগোর পেট্রোল, সিএনজি এবং ইলেকট্রিক—তিনটি ভার্সনই বাজারে বর্তমান। নতুন আইসিএনজি মডেলটি প্রতিযোগিতামূলক দামে লঞ্চ করা হলে তা সিএনজি ক্রেতাদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে উঠে আসবে বলেই মনে করছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা।
২৮ মে-র অপেক্ষায় বাজার
আগামী ২৮শে মে টাটা মোটরস এই গাড়ির সঠিক দাম এবং ভ্যারিয়েন্টগুলোর তালিকা প্রকাশ করবে। নতুন প্রজন্মের এই সিএনজি হ্যাচব্যাকটি কতটা সফল হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।