কবে অ্য়াকাউন্টে আসবে বাড়তি বেতন? অষ্টম বেতন কমিশন দেরি হওয়ায় উদ্বিগ্ন কর্মীরা

অষ্টম বেতন কমিশন নিয়ে দেশের কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও উৎকণ্ঠা রয়েছে। কিন্তু কমিশন গঠিত হওয়ার পর সুপারিশ জমা দেওয়ার জন্য নির্ধারিত ১৮ মাসের সময়সীমা এবং কার্যকর হওয়ার তারিখের মধ্যে যে ব্যবধান রয়েছে, তা নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন।
অষ্টম বেতন কমিশনের বর্তমান অবস্থা: ২০২৫ সালের নভেম্বরে অষ্টম বেতন কমিশন গঠিত হয়েছে। সুপারিশ জমা দেওয়ার জন্য ১৮ মাসের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে, যার অর্থ ২০২৭ সালের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সংশোধিত বেতন ও পেনশন ১ জানুয়ারি, ২০২৬ থেকে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে সেই তারিখ থেকেই বকেয়া বেতন জমার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে।
কেন এই বিলম্ব চিন্তার কারণ? ব্যাঙ্কবাজারের সিইও আধিল শেঠির মতে, বেতন কাঠামোর সংশোধনে বিলম্ব হলে কর্মচারীদের ওপর দুটি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে:
-
বাড়ি ভাড়া ভাতা (HRA) হারানো: সংশোধিত মূল বেতনের বকেয়া পরবর্তীকালে পাওয়া সম্ভব হলেও, বাড়ি ভাড়া ভাতার (HRA) ক্ষেত্রে সেই সুবিধা পাওয়ার সুযোগ থাকে না। যারা মেট্রো শহরে থাকেন, তাদের ক্ষেত্রে এটি বড় লোকসান। কারণ, বিলম্বের প্রতিটি মাসের HRA-এর পার্থক্য স্থায়ীভাবে হারিয়ে যায় এবং নতুন কাঠামো কার্যকর হওয়ার পর তা আর পুনরুদ্ধার করা যায় না।
-
বকেয়ার পাহাড়: যেহেতু ১ জানুয়ারি, ২০২৬ থেকে বেতন কার্যকর হওয়ার কথা, তাই যত দেরি হবে, সরকারের ওপর বকেয়া পরিশোধের বোঝা তত বাড়তে থাকবে। চূড়ান্ত অনুমোদনের পর সরকারকে হয়তো এককালীন অনেক বড় অঙ্কের অর্থ প্রদান করতে হতে পারে, যা সরকারি কোষাগারের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে।
সরকারের ওপর আর্থিক চাপ: বেতন ও পেনশন সংশোধনের এই বকেয়া একটি ক্রমবর্ধমান আর্থিক দায় হিসেবে জমা হচ্ছে। যদি এই পরিবর্তনগুলি পর্যায়ক্রমে না হয়ে একবারে কার্যকর করা হয়, তবে সরকারের ব্যয়ের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে। অর্থাৎ, কর্মচারীদের দীর্ঘ অপেক্ষা যেমন তাদের ভাতার ক্ষতি করছে, তেমনই সরকারের ওপরও এককালীন বড় আর্থিক চাপের সম্ভাবনা তৈরি করছে।
উপসংহার: বর্তমানে কমিশন কর্মচারী ইউনিয়নগুলোর সাথে পরামর্শমূলক পর্যায়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। সরকারি কর্মচারীরা মূল বেতনের বকেয়া নিয়ে নিশ্চিন্ত থাকলেও, HRA-এর মতো ভাতার স্থায়ী ক্ষতি নিয়ে উদ্বিগ্ন। এখন দেখার বিষয়, সরকার এই আর্থিক দায় সামলাতে এবং কর্মচারীদের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটাতে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।