‘দুর্নীতিই গ্রাস করেছে দলকে’, তৃণমূলের ভরাডুবি নিয়ে মুখ খুলে দলের অন্দরেই অস্বস্তি বাড়ালেন সুখেন্দুশেখর রায়

কল্যাণীতে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক বৈঠকে সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের উপস্থিতি নিয়ে জলঘোলা হওয়ার রেশ কাটতে না কাটতেই, এবার তৃণমূলের অন্দরে বড়সড় ভাঙনের ইঙ্গিত। মঙ্গলবার সকালে রাজ্যসভার সাংসদ তথা বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা সুখেন্দুশেখর রায়ের একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ঘিরে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। রোমান সাম্রাজ্যের পতনের ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে তিনি সরাসরি লিখেছেন, “পশ্চিমবঙ্গের মানুষ অসহনীয় নৈরাজ্যের অবসান ঘটিয়েছেন।”

পরাজয়ের ময়নাতদন্ত ও সুখেন্দুশেখরের তিন সত্য
ছয় দশকের দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই প্রবীণ নেতা দলের এই শোচনীয় পরাজয়ের পেছনে মূলত তিনটি কারণকে দায়ী করেছেন:

১. আরজি কর ইস্যু: সুখেন্দুবাবুর মতে, ২০২৪ সালে আরজি কর হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা এবং তার প্রতিবাদে লক্ষ লক্ষ মানুষের রাজপথে নেমে আসার ঘটনাটি ছিল দলের জন্য সবচেয়ে বড় অশনিসংকেত, যা দল বুঝতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।

২. দুর্নীতির চরম পরাকাষ্ঠা: সাংসদের অভিযোগ, প্রতিটি গ্রামে বর্তমানে সাধারণ মানুষ পঞ্চায়েত প্রধানদের বিপুল সম্পত্তির দিকে তাকিয়ে দেখেছে তৃণমূলের দুর্নীতির চেহারা। মানুষ যখন কোনো বিকল্প খুঁজে পায়নি, তখন তারা বিজেপিকেই বেছে নিয়েছে। ২০১১ সালে সিপিএমের পতনের যে কারণ ছিল, ২০২৬-এ তৃণমূলের পতনের কারণও ঠিক তাই।

৩. দলীয় শুদ্ধকরণের প্রয়োজন: লোকসভা নির্বাচনে ২৯টি আসন পাওয়ার দু’বছরের মাথায় এই বিপুল ধস কেন? এই প্রশ্ন তুলেই সুখেন্দুশেখর রায় দলের অন্দরে কঠোর ‘শুদ্ধকরণ’-এর দাবি তুলেছেন।

ব্যাকফুটে শাসকদল
কাকলি ঘোষ দস্তিদারের মতো হেভিওয়েট নেত্রীকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর দলের অন্দরে যে অসন্তোষের আগুন জ্বলছিল, সুখেন্দুশেখরের এই মন্তব্য সেই আগুনে ঘি ঢালল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এই মন্তব্য ঘাসফুল শিবিরকে যে চরম অস্বস্তিতে ফেলেছে, তা বলাই বাহুল্য। তৃণমূলের একজন প্রথম সারির নেতা হয়েও দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে তাঁর এই খোলাখুলি সমালোচনা দলের মধ্যে গভীর ভাঙনের ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই জল্পনা শুরু হয়েছে।