আটকে থাকা প্যানেলে নিয়োগ কবে? চাকরিপ্রার্থীদের আশার আলো দেখালেন শমীক

রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই বঞ্চিত ও চাকরিপ্রার্থীদের ভিড় বাড়ছে নবান্ন থেকে শুরু করে দলীয় কার্যালয়গুলোতে। সোমবার রাজ্য বিজেপি কার্যালয়ের সামনে রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে দেখা করেন একদল চাকরিপ্রার্থী। নিয়োগের দীর্ঘসূত্রতা ও অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে তাঁরা তুলে ধরেন তাঁদের বঞ্চনার কাহিনী।

শমীক ভট্টাচার্যের আশ্বাস চাকরিপ্রার্থীদের অভিযোগ শুনে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে যোগ্য মানুষের মেধা প্রতারিত হয়েছে, চাকরি বিক্রি হয়েছে—এই বিষয়গুলো আমার অজানা নয়। তবে আমি সরকার নই, সরাসরি নির্দেশ দিতে পারি না। কিন্তু আমি নিশ্চিত, সরকার খুব সহানুভূতির সঙ্গে ও দায়িত্ব নিয়ে এই বিষয়গুলি দেখবে।”

শমীক আরও জানান, জুনের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই মন্ত্রিসভার পূর্ণাঙ্গ রূপ সামনে আসবে। তারপরই সমস্ত অমীমাংসিত নিয়োগ প্রক্রিয়ার দিকে নজর দেবে বর্তমান সরকার। এই সমস্যার সমাধানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ওপর ভরসা রাখার পরামর্শ দিয়েছেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি। তাঁর কথায়, “শুভেন্দু অধিকারী বিরোধী দলনেতা হিসেবে দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে বঞ্চিত ও প্রতারিত মানুষের পাশে থেকেছেন। তিনি আপনাদের যন্ত্রণা ভালো বোঝেন। আপনারা আস্থা রাখুন, তিনিই আপনাদের সমস্যার সমাধান করবেন। তবে কিছুটা সময় দিতে হবে।”

মুখ্যমন্ত্রীর ‘জনতার দরবার’ উল্লেখ্য, সোমবার সল্টলেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আয়োজিত ‘জনতার দরবার’-এও রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা চাকরিপ্রার্থীদের একাধিক সংগঠন তাদের দাবি দাওয়া তুলে ধরে। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ পেয়ে চাকরিপ্রার্থীরা যথেষ্ট আশাবাদী। সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের আশ্বস্ত করেছেন যে প্রতিটি মামলার ফাইল তিনি ব্যক্তিগতভাবে খতিয়ে দেখবেন।

দীর্ঘ টালবাহানার পর নতুন সরকারের কাছে চাকরির প্যানেলভুক্ত প্রার্থীদের এই আবেদন রাজ্যের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে নতুন করে প্রত্যাশার পারদ চড়িয়েছে। এখন দেখার, জুনের প্রথম সপ্তাহের পর নতুন সরকার এই নিয়োগের জট খুলতে কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করে।