‘৩ এফ’ ফর্মুলায় অর্থনীতির সুরক্ষা!-মধ্যপ্রাচ্যের উত্তাপ সামলাতে ব্লু-প্রিন্ট দিলেন নির্মলা সীতারামন

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তার আঁচ এসে পড়েছে ভারতের অর্থনীতিতেও। এই প্রতিকূল সময়ে দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কেন্দ্রের হাতিয়ার এখন ‘3Fs’ ফর্মুলা। মুম্বইতে এক অনুষ্ঠানে এ কথা জানালেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন।

কী এই ‘3Fs’ ফর্মুলা? অর্থমন্ত্রীর মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে অর্থনীতির সুরক্ষায় তিনটি স্তম্ভের ওপর বিশেষ নজর দেওয়া জরুরি:

  • Fuel (জ্বালানি): অপরিশোধিত তেলের আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা সামাল দেওয়া।

  • Fertiliser (সার): কৃষিপ্রধান ভারতের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য সারের সরবরাহ ও ভর্তুকি নিয়ন্ত্রণ।

  • Forex (বিদেশি মুদ্রার ভান্ডার): বিদেশি মুদ্রা সঞ্চয় বাড়ানো এবং অপ্রয়োজনীয় আমদানি কমিয়ে অর্থের অপচয় রোধ করা।

জ্বালানি সংকট ও রাজকোষের চাপ আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ওঠানামার সরাসরি প্রভাব পড়ছে ভারতের পরিবহণ ও জ্বালানি খাতে। অর্থমন্ত্রী স্বীকার করেছেন যে, সাধারণ মানুষের স্বস্তির জন্য সরকার আবগারি শুল্ক কমানোর মতো পদক্ষেপ নিলেও, এতে রাজকোষের ওপর বড় ধরনের চাপ পড়ছে। কেন্দ্রের আশঙ্কা, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে সরকারি আয়ে প্রায় ১ লক্ষ কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতি হতে পারে।

MSME সেক্টর নিয়ে কড়া বার্তা এদিনের অনুষ্ঠানে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের (MSME) বকেয়া পাওনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন নির্মলা সীতারামন। জানা গিয়েছে, দেশের ছোট ও মাঝারি সংস্থাগুলির প্রায় ৮.১ লক্ষ কোটি টাকা বিভিন্ন জায়গায় আটকে রয়েছে। এই লিকুইডিটি সংকট কাটাতে সমস্ত রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাকে (PSU) কড়া নির্দেশ দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। তিনি সাফ জানিয়েছেন, আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে MSME-র যাবতীয় বকেয়া মিটিয়ে দিতে হবে। এতে ছোট ব্যবসায়ীদের মূলধনের জোগান বাড়বে এবং অর্থনীতিতে গতির সঞ্চার হবে।

আতঙ্ক নয়, সতর্কতাই লক্ষ্য পরিস্থিতি যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং হলেও, দেশের অর্থনীতি নিয়ে অহেতুক আতঙ্ক না ছড়ানোর বার্তা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন যে, প্রতিকূল আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির মধ্যেও ভারতীয় অর্থনীতি এখনও স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে। তাঁর কথায়, “ভয় পাওয়ার কিছু নেই, পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে সতর্কতার সাথে এগিয়ে চলাই এখন মূল লক্ষ্য।”

সোনা আমদানি কমানোর মতো প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আবেদনের সমর্থন জানিয়ে অর্থমন্ত্রী দেশবাসীকে আরও মিতব্যয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, যা দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার পথে সহায়ক হবে।