“৩ বছরে ২৯৪ দিন সার্ভিস সেন্টারে!”-Royal Enfield-কে ৫ লক্ষ টাকা জরিমানার নির্দেশ

শখের বাইক কিনে চরম বিপাকে এক আইনজীবী। বাইক কেনার পর থেকে গত তিন বছরে ২৯৪ দিন সেটি সার্ভিস সেন্টারেই বন্দি থাকায় শেষ পর্যন্ত ক্রেতা সুরক্ষা আদালতের দ্বারস্থ হলেন ক্রেতা। এই মামলার রায়ে Royal Enfield এবং সংশ্লিষ্ট ডিলারকে সম্মিলিতভাবে ৫ লক্ষ টাকারও বেশি ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে উপভোক্তা আদালত।
অভিযোগের পাহাড় ঘটনাটি তামিলনাড়ুর কোয়েম্বাটোরের। ২০২২ সালের মে মাসে শখ করে ‘Continental GT 650’ মডেলের বাইকটি কিনেছিলেন আইনজীবী উথরেশ গোবু। কিন্তু তাঁর অভিযোগ, কেনার পর থেকেই বাইকে একের পর এক যান্ত্রিক ও বৈদ্যুতিক সমস্যা দেখা দেয়। কখনো ইনস্ট্রুমেন্ট ক্লাস্টার, কখনো সাসপেনশন, আবার কখনো বৈদ্যুতিক ওয়্যারিং—মূল্যবান এই বাইকের যন্ত্রাংশ বদলাতে বদলাতে নাজেহাল হতে হয় তাঁকে। অভিযোগ, ইনস্ট্রুমেন্ট ক্লাস্টারে ভাপ জমা ও ডিসপ্লের সমস্যার কারণে সেটি ছয়বার এবং ‘কী সেট’ তিনবার পরিবর্তন করতে হয়েছে।
সার্ভিসিংয়ের নামে হয়রানি শুধু স্থানীয় ডিলার নয়, পুনে থেকে দিল্লি—দেশের বিভিন্ন শহরের অথরাইজড সার্ভিস সেন্টারে বাইকটি নিয়ে গিয়েও কোনো স্থায়ী সুরাহা মেলেনি। গ্রাহকের অভিযোগ, দফায় দফায় যন্ত্রাংশ বদলের ফলে বাইকের ওডোমিটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং রিসেল ভ্যালুও তলানিতে ঠেকেছে। এর পাশাপাশি, অতিরিক্ত ইনস্যুরেন্স প্রিমিয়াম নেওয়া ও রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেটে বানান ভুলের মতো অভিযোগও তোলা হয়েছে।
আদালতের কড়া পর্যবেক্ষণ মামলার শুনানিতে উপভোক্তা আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, বার বার একই ধরনের ত্রুটি এবং তা ঠিক করতে ব্যর্থ হওয়া অত্যন্ত নিম্নমানের কাস্টমার সার্ভিসের লক্ষণ। ক্রেতার দীর্ঘদিনের ভোগান্তির কথা বিবেচনা করে আদালত Royal Enfield এবং সংশ্লিষ্ট ডিলার ‘ভারত অটোমোটিভস’-কে সম্মিলিতভাবে ৫.১ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। সেই সঙ্গে মামলার খরচ বাবদ অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা দেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এই টাকা পরিশোধ না করলে বার্ষিক ১২ শতাংশ হারে সুদ গুনতে হবে সংস্থাকে।
প্রিমিয়াম সেগমেন্টের বাইক হিসেবে ‘Continental GT 650’-এর বিপুল জনপ্রিয়তা থাকলেও, এই ঘটনা বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল নামী এই সংস্থার গুণমান ও পরিষেবা ব্যবস্থার ওপর।