‘নির্ভয়ে কাজ করুন’, সরকারি আধিকারিকদের মনোবল ফেরাতে নজিরবিহীন উদ্যোগ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর

রাজ্যের প্রশাসনিক জটিলতা কাটিয়ে এবং আমলাদের মধ্যে কর্মোৎসাহ ফিরিয়ে আনতে অভিনব উদ্যোগ নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আজ সন্ধ্যায় আলিপুরের ‘সৌজন্য’ সভাগৃহে রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় সরকারি আমলাদের নিয়ে এক বিশেষ নৈশভোজের আয়োজন করেছেন তিনি। নবান্ন সূত্রে খবর, এই নৈশভোজের মূল লক্ষ্য সরকারি আধিকারিকদের সঙ্গে দীর্ঘদিনের দূরত্ব ঘুচিয়ে নতুন করে প্রশাসনিক সমন্বয় গড়ে তোলা।
কেন এই নৈশভোজ?
পূর্বতন সরকারের আমলে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাতের জেরে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারি আমলাদের মধ্যে এক অদৃশ্য দেওয়াল তৈরি হয়েছিল। এর ফলে কেন্দ্রের জনমুখী অনেক প্রকল্প রাজ্যে সঠিকভাবে কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কেন্দ্রের সমস্ত সামাজিক প্রকল্প কার্যকর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এই লক্ষ্যে দুই ধরনের আধিকারিকদের মধ্যে নিরবচ্ছিন্ন সমন্বয় থাকা অপরিহার্য। সেই সেতুবন্ধনের উদ্দেশ্যেই আজকের এই নৈশভোজের আয়োজন।
ভয়ের পরিবেশ কাটিয়ে নির্ভয়ে কাজ করার বার্তা
প্রাক্তন তৃণমূল সরকারের আমলে আমলাদের ওপর রাজনৈতিক চাপের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। বিভিন্ন প্রশাসনিক বৈঠকে বা সরাসরি সম্প্রচার চলাকালীন শীর্ষস্তরের আমলাদের প্রকাশ্য ভর্ৎসনার শিকার হতে হতো। আমলাদের একাংশের দাবি, সেই সময়ে অত্যন্ত ভয়ের পরিবেশে তাঁদের কাজ করতে হতো। সেই ভয়ের আবহই পুরোপুরি মুছে ফেলতে চান বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী।
নতুন প্রশাসনিক সংস্কৃতি
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের পরেই শুভেন্দু অধিকারী সমস্ত সচিবদের ‘নির্ভয়ে কাজ করার’ বার্তা দিয়েছেন। সম্প্রতি নবান্নে সচিবদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, কোনো সরকারি সভায় রাজনৈতিক মন্তব্য বা রাজনৈতিক প্রশ্নের অবতারণা করা হবে না। এছাড়া, সরকারি সভায় আমলাদের নাম ধরে ডাকার যে রেওয়াজ ছিল, তা-ও তিনি বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন। ডায়মন্ড হারবারের প্রশাসনিক বৈঠকে তিনি পুনরায় এই সংকল্পের কথা জানান। পুলিশ থেকে শুরু করে অন্যান্য সরকারি আধিকারিকদের সম্মান ও মর্যাদার সাথে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করাই মুখ্যমন্ত্রীর মূল লক্ষ্য।
আজকের এই নৈশভোজের মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী বুঝিয়ে দিতে চান, প্রশাসনিক কাজে আমলাদের মতামত ও মর্যাদা দেওয়া তাঁর সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। রাজনৈতিক হস্তক্ষেপমুক্ত এক নিরপেক্ষ প্রশাসনিক পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে মুখ্যমন্ত্রীর এই পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছে ওয়াকিবহাল মহল।
উপসংহার: সরকারের কাজ এবং প্রশাসনের কাজের মধ্যে যে স্পষ্ট সীমারেখা থাকা উচিত, আজকের এই নৈশভোজ তারই প্রথম পদক্ষেপ। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও তিরস্কারের সংস্কৃতি পেরিয়ে রাজ্য প্রশাসন কতটা স্বচ্ছ ও দক্ষ হয়ে ওঠে, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে আমলা মহল।