প্রেমিকার বাথরুমে স্ত্রীর পচাগলা দেহ! গুরুগ্রামে নৃশংস হত্যাকাণ্ডে শিউরে উঠল এলাকা

বিয়ে পরবর্তী দাম্পত্য কলহের জেরে এক চরম নৃশংসতার সাক্ষী থাকল হরিয়ানার গুরুগ্রাম। মানেসর এলাকা থেকে উদ্ধার হলো ২২ বছর বয়সী এক গৃহবধূর পচাগলা দেহ। অভিযোগ, স্ত্রীকে খুনের পর দেহটি নিজের প্রেমিকার ভাড়া করা ঘরের বাথরুমে লুকিয়ে রেখে পালিয়ে গেছে ঘাতক স্বামী। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

মিথ্যে গল্পের আড়ালে খুনের ছক
মৃত তরুণীর নাম মধু (২২), বাড়ি রেওয়ারির হংসকা গ্রামে। বছরখানেক আগে মানেসরের বাসিন্দা অঙ্কিত ভগতের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছিল। গত ২১ মে হঠাৎই মধু নিখোঁজ হয়ে যান। মধু নিখোঁজ হওয়ার পর স্বামী অঙ্কিত এবং তার পরিবারের সদস্যরা মধুর বাপের বাড়িতে গিয়ে দাবি করেন, মধু সব গয়না নিয়ে অন্য কারো সঙ্গে পালিয়ে গেছে।

এই বয়ানে সন্দেহ হওয়ায় মধুর পরিবার তড়িঘড়ি পুলিশের দ্বারস্থ হন। তদন্তের মাঝপথেই ২২ মে অভিযুক্ত স্বামী অঙ্কিত এলাকা থেকে চম্পট দেয়।

প্রতিবেশীদের সূত্রেই মিলল রহস্যের জট
তদন্ত শুরু হতেই স্থানীয় প্রতিবেশীরা পুলিশকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন। তাঁরা জানান, ২১ মে মধুর স্বামী অঙ্কিতকে একটি স্কুটারে করে তরুণীকে নিয়ে যেতে দেখা গিয়েছিল। এর পাশাপাশি তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, মানেসর বাসস্ট্যান্ডের কাছে একটি ঘর ভাড়া নিয়ে প্রেমিকার সঙ্গে লিভ-ইন সম্পর্কে ছিল অঙ্কিত। ২২ মে রাতে অঙ্কিত ও তার প্রেমিকাকে আতঙ্কিত অবস্থায় ঘর থেকে বেরিয়ে যেতে দেখেন স্থানীয়রা।

বাথরুমে তালাবন্ধ পচাগলা দেহ
রবিবার ঘর থেকে উৎকট দুর্গন্ধ বেরোতে থাকায় প্রতিবেশীরা পুলিশে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাথরুমের ভেতর থেকে মধুর পচনশীল দেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারণা, খুনের পর দেহটি বাথরুমে লুকিয়ে রেখে তাতে তালা মেরে দেওয়া হয়েছিল।

পলাতক অভিযুক্তরা
মধুর পরিবারের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অঙ্কিত ও তার প্রেমিকার বিরুদ্ধে হত্যা ও তথ্যপ্রমাণ লোপাটের মামলা দায়ের করেছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের একাধিক দল তল্লাশি চালাচ্ছে। ময়নাতদন্তের জন্য দেহটি পাঠানো হয়েছে। দিনের আলোয় ঘটে যাওয়া এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড এলাকায় শোক ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করেছে।