নীল সমুদ্রে রূপ নিল ওয়াংখেড়ে! ২০ হাজার শিশুর স্বপ্নপূরণে অনন্য নজির মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের ‘ইএসএ’ ম্যাচে

ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়াম সেদিন কেবল ক্রিকেট মাঠ ছিল না, পরিণত হয়েছিল এক বিশাল মানবিক মিলনক্ষেত্রে। মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বার্ষিক ‘এডুকেশন অ্যান্ড স্পোর্টস ফর অল’ (ESA) ম্যাচে এবার ২০,০০০-এরও বেশি শিশুর সমাগম ঘটেছিল। রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনের এই অনন্য উদ্যোগের নেপথ্যে ছিলেন নীতা আম্বানি, যার হাত ধরে নাসিক, সাতারা, ভালসাদ থেকে শুরু করে মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রান্তের শিশুরা নিজেদের প্রিয় তারকাদের সরাসরি দেখার সুযোগ পায়।

দৃষ্টিহীন শিশুদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা
এবারের ESA ম্যাচের অন্যতম বিশেষ আকর্ষণ ছিল প্রথমবারের মতো দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিশুদের স্টেডিয়ামে নিয়ে আসা। প্রায় ১০০ জন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী এবং ২০০ জনেরও বেশি বিশেষভাবে সক্ষম শিশু এই আয়োজনে অংশ নেয়। নীতা আম্বানি জানিয়েছেন, “ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য ব্লাইন্ডের শিশুরা আইপিএলের আগেই স্টেডিয়ামে খেলা দেখার ইচ্ছে প্রকাশ করেছিল। তাদের সেই স্বপ্ন পূরণ করতে পেরে আমি আপ্লুত। আমরা চাই প্রতিটি শিশু নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করুক।”

ভারতের অলিম্পিক লক্ষ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা
ইন্টারন্যাশনাল অলিম্পিক কমিটির সদস্য নীতা আম্বানি এদিন ভারতের ক্রীড়া পরিকাঠামো নিয়ে রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনের স্বপ্নের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, ইতিমধ্যেই দেশের ২৮টি রাজ্যে প্রায় ২ কোটি ৯০ লক্ষের বেশি শিশু ও তরুণ-তরুণীর কাছে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে এই ফাউন্ডেশন। শুধু ক্রিকেট নয়, অ্যাথলেটিক্স, ফুটবলের মতো বিভিন্ন খেলাতেও আধুনিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও ক্রীড়া বিজ্ঞানের সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। ভারতকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে অলিম্পিক গেমস আয়োজনের স্বপ্নও নতুন করে দেখালেন তিনি।

এক বিশাল কর্মযজ্ঞের খতিয়ান
এই বিশাল অনুষ্ঠান সফল করতে ছিল ব্যাপক সমন্বয় ও মানবিক প্রচেষ্টার ছাপ:

পরিবহন: ৫৫০টিরও বেশি বাসে করে শিশুদের আনা-নেওয়া করা হয়।

স্বেচ্ছাসেবী: ২,৪০০-এরও বেশি স্বেচ্ছাসেবক মাঠ পর্যায়ে নিয়োজিত ছিলেন।

সুরক্ষা ও স্বাস্থ্য: ৪৫০-এরও বেশি পুলিশকর্মী এবং ৫৫০ জন ট্রাফিক অফিসার নিরাপত্তা সামলেছেন, পাশাপাশি ১০০ জনেরও বেশি চিকিৎসাকর্মী ছিলেন জরুরি স্বাস্থ্যসেবার জন্য।

খাদ্য ও ব্যবস্থাপনা: শিশুদের জন্য ৯২,০০০ খাবারের বাক্স সরবরাহ করা হয়।

প্রায় ৪০টিরও বেশি এনজিও এবং ধীরুভাই আম্বানি ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের শিক্ষার্থী ও কর্মীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই আয়োজন এক অনন্য নজির স্থাপন করল। মাঠের ক্রিকেট লড়াইয়ের পাশাপাশি এই মানবিক জয়গানই এদিন ওয়াংখেড়েকে এক আলাদা উচ্চতায় নিয়ে গেল।