‘এত ভুল কেন বারবার?’ নিট প্রশ্নফাঁস নিয়ে এনটিএ-কে তুলোধনা শীর্ষ আদালতের, চাপে কেন্দ্রীয় আমলাতন্ত্র

‘নিট-ইউজি ২০২৬’ (NEET-UG 2026) পরীক্ষা কেলেঙ্কারি এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় এবার অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিল সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার এই সংক্রান্ত জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি বা এনটিএ (NTA)-র ভূমিকা নিয়ে চরম অসন্তোষ ও হতাশা প্রকাশ করল শীর্ষ আদালতের ডিভিশন বেঞ্চ। দেশের ২৩ লক্ষ পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশাসনিক গাফিলতি ও উদাসীনতা মেনে নিতে নারাজ আদালত।
পূর্বের ভুল থেকে শিক্ষা নেয়নি এনটিএ?
এদিন শুনানিতে বিচারপতিরা অত্যন্ত কড়া ভাষায় এনটিএ-র সমালোচনা করেন। অতীতের কেলেঙ্কারিগুলোর কথা মনে করিয়ে দিয়ে আদালত প্রশ্ন তোলে, “পূর্ববর্তী পরীক্ষাগুলোর বিপর্যয় থেকে শিক্ষা নিয়ে যে সংস্কারের কথা বলা হয়েছিল, তা আদৌ কার্যকর হয়েছে কি? সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠনের পরেও কীভাবে একই ধরনের গলদ বারবার ফিরে আসছে?” আদালতের এই পর্যবেক্ষণ স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, নিট পরীক্ষার পরিকাঠামোর রন্ধ্রে রন্ধ্রে থাকা গলদ এখন সুপ্রিম কোর্টের নজরবন্দি।
৩ দিনের চরম ‘ডেডলাইন’
প্রশাসনিক গাফিলতির গভীরে পৌঁছাতে সোমবার সুপ্রিম কোর্ট দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছে:
১. এনটিএ-র হলফনামা: ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সিকে আগামী মাত্র ৩ দিনের মধ্যে একটি হলফনামা জমা দিতে হবে। সেখানে গত ১৪ নভেম্বর গঠিত ‘মনিটরিং কমিটি’র কাজের অগ্রগতি এবং বর্তমানে তার স্ট্যাটাস কী, তা বিশদভাবে জানাতে হবে।
২. জে. রাধাকৃষ্ণনের খতিয়ান: সুপ্রিম কোর্টের তৈরি করা হাই-পাওয়ার্ড কমিটির সুপারিশগুলো বাস্তবায়নে প্রশাসন ঠিক কী কী পদক্ষেপ নিয়েছে, তার নিখুঁত বিবরণ দিয়ে ৩ দিনের মধ্যে জে. রাধাকৃষ্ণনকেও পৃথক হলফনামা জমা দিতে হবে।
আইনি লড়াই ও দ্রুত শুনানির আর্জি
মামলাকারীদের পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী তনভী দুবে এই ইস্যুর সংবেদনশীলতার কথা তুলে ধরে দ্রুত শুনানির আর্জি জানান। আদালতের নির্দেশে মূল মামলার পাশাপাশি সমান্তরাল সমস্ত পিটিশনকে গ্রহণ করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নোটিস জারি করা হয়েছে। সমস্ত নথির অনুলিপি সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতার দপ্তরে পাঠানোরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চাপে কেন্দ্রীয় আমলাতন্ত্র
সংসদীয় কমিটির সামনে দাঁড়িয়ে এনটিএ-র ডিরেক্টর জেনারেল অভিষেক সিং যখন ‘সিস্টেমের বাইরে লিক’ হওয়ার তত্ত্ব দিয়ে দায় এড়ানোর চেষ্টা করছেন, ঠিক তখনই সুপ্রিম কোর্টের এই ৩ দিনের সময়সীমা প্রশাসনিক মহলে প্রবল চাপ সৃষ্টি করেছে। এই দুই হলফনামা জমা পড়ার পরই আদালত নিট মামলার পরবর্তী পদক্ষেপ ও শুনানির দিন নির্ধারণ করবে। দেশের লক্ষ লক্ষ হবু চিকিৎসকের ভবিষ্যৎ যখন অনিশ্চিত, তখন শীর্ষ আদালতের এই কড়া অবস্থান নতুন করে আশার আলো দেখাচ্ছে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের।