বাড়ির ভেতর গোপনে ভিডিও রেকর্ডিং! চরম বিতর্কে বেঙ্গালুরুর স্টার্টআপ ‘প্রন্টো’

প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) দৌড়ে কি আমরা নিজেদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তাকে বিসর্জন দিচ্ছি? বেঙ্গালুরু-ভিত্তিক হোম হেল্প সার্ভিস স্টার্টআপ ‘প্রন্টো’-র বিরুদ্ধে ওঠা সাম্প্রতিক অভিযোগ এই প্রশ্নই তুলে দিয়েছে। অভিযোগ, গ্রাহকদের বাড়ি পরিষ্কার করার সময় তাদের অজান্তেই (বা সীমিত অনুমতিতে) ভিডিও রেকর্ড করা হচ্ছিল, যা ব্যবহার করা হতো এআই রোবটিক্স মডেলকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য।

ঘটনার সূত্রপাত কীভাবে?
ইন্টারনেট অর্থনীতি পর্যবেক্ষণকারী প্ল্যাটফর্ম ‘এনট্র্যাকার’ (Entrackr)-এর একটি প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আসে। বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ‘গ্লেড ব্রুক ক্যাপিটাল’-এর একটি অভ্যন্তরীণ নথিতে দেখা যায়, প্রন্টো তাদের গৃহকর্মীদের মাধ্যমে বাস্তব জগতের তথ্য সংগ্রহ করছে। উদ্দেশ্য—ফিজিক্যাল এআই (Physical AI) এবং রোবটিক্স মডেলকে উন্নত করা। সংস্থাটি নাকি ইতোমধ্যে বিভিন্ন এআই ল্যাবের সঙ্গে পাইলট প্রকল্পও শুরু করেছে।

প্রন্টোর সাফাই:
বিতর্কের মুখে পড়ে সংস্থাটি স্বীকার করে যে, তারা একটি সীমিত পাইলট প্রকল্প পরিচালনা করছিল। তাদের দাবি:

রেকর্ডিং শুধুমাত্র গ্রাহকের অনুমতির ভিত্তিতেই করা হতো।

গৃহকর্মীরা যে ক্যামেরা বহন করতেন, তা শুধুমাত্র কাজের জায়গাকেই রেকর্ড করত।

সংগৃহীত ফুটেজ পরে গ্রাহকদের কাছেও পাঠানো হতো।
তাদের যুক্তি, ভবিষ্যতে রোবট ও মেশিনের মাধ্যমে গৃহস্থালির কাজ (যেমন থালা মাজা, কাপড় ভাঁজ করা) নিখুঁতভাবে করানোর জন্য মানুষের কাজের বাস্তব ডেটা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

কেন তৈরি হলো বিতর্ক?
সোশ্যাল মিডিয়ায় সাধারণ মানুষ এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। নেটিজেনদের মতে:
১. ব্যক্তিগত পরিসরের লঙ্ঘন: বাড়ি মানুষের সবচেয়ে নিরাপদ ও ব্যক্তিগত জায়গা। সেখানে রেকর্ডিং হওয়া বিশ্বাসভঙ্গের শামিল।
২. তথ্য সুরক্ষার অভাব: সাধারণত অ্যাপগুলো অনলাইন কার্যকলাপ ট্র্যাক করে, কিন্তু সরাসরি মানুষের অন্দরমহলের ভিডিও রেকর্ড করা এআই প্রশিক্ষণের নামে কতটা নৈতিক, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
৩. অন্যান্য সংস্থার বিবৃতি: ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ‘স্ন্যাবিট’-এর মতো অন্যান্য হোম সার্ভিস স্টার্টআপগুলো দ্রুত বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে যে, তারা গ্রাহকের বাড়িতে কোনো ধরনের রেকর্ডিং করে না।