পালাবদলের প্রভাব! গোসাবায় বিজেপি কর্মীর থেকে নেওয়া ৮০ হাজার টাকা ফেরত দিলেন তৃণমূল নেতা

রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই যেন ভোলবদল ঘটছে তৃণমূলের অন্দরে। একের পর এক নেতা গ্রেফতার হওয়ার ভয়ে বা জনরোষের চাপে পড়ে এবার তোলাবাজির টাকা ফেরত দেওয়ার মতো ঘটনা সামনে এল দক্ষিণ ২৪ পরগনার গোসাবায়। এক বিজেপি কর্মীর থেকে জোর করে আদায় করা ৮০ হাজার টাকা রাতের অন্ধকারে ফেরত দিয়ে নিজের অপরাধ স্বীকার করলেন এক তৃণমূল বুথ সভাপতি।
কী ঘটেছিল সেদিন?
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর ১০ মে, গোসাবার শম্ভুনগর অঞ্চলের বাসিন্দা তথা সক্রিয় বিজেপি কর্মী সন্তোষ জানাকে হেনস্থা করার অভিযোগ ওঠে। বিজেপি করার ‘অপরাধে’ ওই কর্মীর ওপর চড়াও হয়ে ৮০ হাজার টাকা ‘জরিমানা’ হিসেবে আদায় করা হয় বলে অভিযোগ। বিজেপি কর্মীর দাবি:
৪০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছিল অনলাইনে।
বাকি ৪০ হাজার টাকা নেওয়া হয় নগদে।
শুধু টাকাই নয়, দোকান জবরদখল ও খুনের হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ।
রাতের অন্ধকারে আত্মসমর্পণ
টাকা ফেরত দেওয়ার একটি ভিডিয়ো বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, গোসাবার পালপুর ৩৩ নম্বর বুথের তৃণমূল বুথ সভাপতি পরিতোষ দাস রাতের অন্ধকারে সন্তোষ জানার বাড়িতে হাজির হন এবং সেই ৮০ হাজার টাকা ফেরত দেন। ক্যামেরার সামনেই নিজের অপরাধ স্বীকার করে পরিতোষ দাস দাবি করেন, তৎকালীন তৃণমূল অঞ্চল সভাপতি পরিতোষ হালদারের সরাসরি নির্দেশেই তিনি এই টাকা ‘জরিমানা’ হিসেবে আদায় করতে বাধ্য হয়েছিলেন।
অস্বস্তিতে তৃণমূল
এই ঘটনায় স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব রীতিমতো অস্বস্তিতে পড়েছে। একদিকে যখন মুখ্যমন্ত্রী ও দল প্রশাসনিকভাবে কঠোর হওয়ার বার্তা দিচ্ছেন, তখন তৃণমূলের নিচুতলার নেতাদের এই ধরনের ‘স্বীকারোক্তি’ ও টাকা ফেরতের ঘটনা বিরোধীদের হাতে বড় অস্ত্র তুলে দিয়েছে। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, গত কয়েক বছরে তৃণমূল নেতারা সাধারণ মানুষ ও বিরোধী কর্মীদের ওপর যে সীমাহীন অত্যাচার চালিয়েছে, এটি তারই এক জ্বলন্ত প্রমাণ।