‘সত্য চেপে রাখা যায় না’, ফলতার নির্বাচনী ফলাফল ও গণনা প্রক্রিয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে কড়া বার্তা অভিষেকের

ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের পুনর্নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরই সুর চড়ালেন তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। গণনায় বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন তিনি। সমাজমাধ্যমে এক দীর্ঘ পোস্টে অভিষেক নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

অভিষেকের তোলা অভিযোগের মূল দিকগুলো:
গণনায় অসঙ্গতি: অভিষেকের দাবি, দুপুর সাড়ে তিনটের মধ্যে ২১ রাউন্ড গণনা শেষ হওয়া গাণিতিকভাবে অসম্ভব। অথচ আগের নির্বাচনে ৪ মে বিকেল পর্যন্ত মাত্র ২-৪ রাউন্ড গণনা হয়েছিল। এই অস্বাভাবিক দ্রুততা নিয়ে কমিশনের কাছে ব্যাখ্যার দাবি তুলেছেন তিনি।

পোলিং এজেন্টদের বের করে দেওয়া: অভিযোগ, কেন্দ্রীয় বাহিনীর সাহায্যে গণনাকেন্দ্র থেকে তৃণমূলসহ অন্যান্য বিরোধী দলের পোলিং এজেন্টদের জোর করে বের করে দেওয়া হয়েছে, যা অবাধ নির্বাচনের পরিপন্থী।

ভয়ের পরিবেশ: অভিষেক জানিয়েছেন, গত ১০ দিনে ফলতায় ১ হাজারের বেশি তৃণমূল কর্মীকে ঘরছাড়া হতে হয়েছে। পার্টি অফিসে ভাঙচুর থেকে শুরু করে আদর্শ আচরণবিধি লঙ্ঘন—সবকিছু দেখেও নির্বাচন কমিশন ‘অন্ধ’ সেজে ছিল।

প্রশাসনিক রদবদল: সিইও (CEO)-এর বিরুদ্ধে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ এনেও তাঁকে মুখ্য সচিব পদে বসানোর বিষয়টিকেও তিনি আচরণবিধির লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছেন।

অমিত শাহের প্রতিক্রিয়া:
অন্যদিকে, ফলতায় বিজেপির এই বিপুল জয়কে ‘ভয়ের রাজনীতির বিরুদ্ধে বাংলার মানুষের রায়’ বলে অভিহিত করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বিজেপির কাছে এটি প্রগতির জয় হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

স্বাধীন তদন্তের দাবি
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই গণনায় সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে স্বাধীন পরীক্ষা-নিরীক্ষা হওয়া প্রয়োজন। দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতার আওতায় না আনলে এই জনাদেশের বিশ্বাসযোগ্যতা থাকবে না বলে তিনি সতর্ক করেছেন।