রান্নাঘরেই লুকিয়ে মৃত্যুর ফাঁদ! আরশোলা তাড়ানোর এই ঘরোয়া টোটকা জানেন কি?

আরশোলা নামটা শুনলেই অনেকের গা শিউরে ওঠে। রাতের অন্ধকারে আপনার রান্নাঘর বা আলমারির আনাচে-কানাচে যে পতঙ্গটি অবাধে ঘুরে বেড়ায়, সে আসলে নিরীহ নয়, বরং রোগের এক আস্ত ডিপো। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, বাড়িতে এদের উপস্থিতি মানেই সপরিবারে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি।
কেন এরা বিপজ্জনক?
একটি পূর্ণবয়স্ক আরশোলা তার জীবদ্দশায় প্রায় এক লক্ষ আরশোলার জন্ম দিতে সক্ষম! অন্ধকার ও স্যাঁতসেঁতে জায়গায় লুকিয়ে থাকা এই পতঙ্গগুলো রাতে খাবারের ওপর দিয়ে হেঁটে বেড়ায়, আর এভাবেই নিঃশব্দে প্লেট থেকে পেটে পৌঁছায় জীবাণু। গবেষণায় দেখা গেছে, আরশোলা ৩৩ ধরনের ব্যাকটেরিয়া ও ৬ ধরনের প্যারাসাইটের বাহক। এদের মাধ্যমে ই-কোলাই ও সালমোনেলার মতো প্রাণঘাতী ব্যাকটেরিয়া ছড়িয়ে পড়ে, যা ডায়রিয়া, কলেরা, টাইফয়েড এমনকি ফুড পয়জনিংয়ের প্রধান কারণ।
শুধু তাই নয়, আরশোলার লালা, মল ও ডিম থেকে অ্যালার্জির সমস্যাও বাড়ে। সমীক্ষা বলছে, শহরাঞ্চলে প্রায় ৭৮ শতাংশ অ্যালার্জেনের উৎস এই আরশোলাই, যা শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে অ্যালার্জিক রাইনিটিস বা শ্বাসকষ্টের প্রকোপ কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয়।
মুক্তির অমোঘ উপায়
বাজারচলতি কেমিক্যাল স্প্রে সাময়িক স্বস্তি দিলেও স্থায়ী সমাধান দেয় না। আরশোলা তাড়াতে নিচের ঘরোয়া উপায়গুলো অবলম্বন করতে পারেন:
পরিচ্ছন্নতাই সেরা সুরক্ষা: রান্নাঘর ও ভাঁড়ারঘর সবসময় পরিষ্কার রাখুন। খাবার খোলা রাখবেন না এবং উচ্ছিষ্ট যেন পড়ে না থাকে।
প্রবেশপথ বন্ধ করুন: বাড়ির খোলা পাইপ বা নর্দমার মুখগুলো দ্রুত বন্ধ করে দিন, কারণ এগুলো দিয়েই তারা ঘরে ঢোকে।
বোরিক অ্যাসিডের অব্যর্থ জাদু: আরশোলা তাড়ানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো বোরিক অ্যাসিড। কাঁচা ডিমের কুসুমের সঙ্গে বোরিক অ্যাসিড পাউডার মিশিয়ে ছোট ছোট বল তৈরি করুন। বলগুলো শুকিয়ে শক্ত হয়ে গেলে রান্নাঘরের কোণায়, আলমারির খাঁজে বা বেসিনের নিচে রেখে দিন। এই মিশ্রণ আরশোলার শরীরে স্পর্শ করলেই তাদের বাইরের আবরণ নষ্ট হয়ে যায় এবং দ্রুত ডিহাইড্রেশনের ফলে তারা মারা যায়। এটি মানুষ বা পোষ্য প্রাণীদের জন্য নিরাপদ হলেও আরশোলাদের জন্য সাক্ষাৎ যম।
সতর্কবার্তা: ঘর পরিষ্কার রাখা এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমেই এই পতঙ্গদের বংশবিস্তার ঠেকানো সম্ভব। তাই আজই আপনার বাড়ির অস্বাস্থ্যকর কোণগুলো পরিষ্কার করার উদ্যোগ নিন।