আর বিমান নয়, ট্রেনেই মিলবে সুপারফাস্ট সফর! রেলের নয়া করিডোরে কী কী সুবিধা পাচ্ছেন?

ভারতীয় রেল গতির এক নতুন ইতিহাস গড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। দিল্লি থেকে মুম্বাই বা কলকাতা—দীর্ঘ এই পথ পাড়ি দিতে এখন আর দীর্ঘ সময় লাগবে না। রেল মন্ত্রকের ‘মিশন রাফতার’-এর হাত ধরে দেশের প্রিমিয়াম ট্রেনগুলো এবার ছুটবে সুপারফাস্ট গতিতে, যা বিমান ভ্রমণের মতো আরামদায়ক ও দ্রুতগতির অভিজ্ঞতা দিতে চলেছে যাত্রীদের।

‘মিশন রাফতার’: রেলের নতুন লক্ষ্য
এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো ২০৩০ সালের মধ্যে ট্রেন যাত্রার সময় ৩৫-৪০% কমিয়ে আনা। বর্তমানের ১৫০-১৬০ কিমি গতির ট্রেনগুলোকে ২০০ কিমি প্রতি ঘণ্টা গতিতে চালানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। সবথেকে বড় চমক হলো, এই রুটের করিডোরে কোনো পরিবর্তন না করেই মাল্টি-ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে এই গতি অর্জন করা সম্ভব হবে।

সময় সাশ্রয়ের এক ঝলক:
রেলের এই আপগ্রেডেশনের পর যাত্রীরা পাবেন সময় সাশ্রয়ের দারুণ সুযোগ:

দিল্লি থেকে হাওড়া: ১৭ ঘণ্টার যাত্রা কমে দাঁড়াবে মাত্র ১১ ঘণ্টায়। (সাশ্রয়: প্রায় ৩৫%)

দিল্লি থেকে মুম্বাই: ১৬ ঘণ্টার যাত্রা কমে দাঁড়াবে ১০ থেকে ১১ ঘণ্টায়। (সাশ্রয়: প্রায় ৩৭%)

এর ফলে রাতে ট্রেনে উঠে আপনি অনায়াসেই গন্তব্যে পৌঁছে সকালের চা উপভোগ করতে পারবেন। এটি কেবল যাতায়াত নয়, দেশের ব্যবসা ও পর্যটন ক্ষেত্রেও নতুন দিগন্ত খুলে দেবে।

কীভাবে কাজ হচ্ছে?
ইতিমধ্যে ১০,০০০ কিলোমিটারেরও বেশি এলাকাজুড়ে ৫০টিরও বেশি মাল্টি-ট্র্যাকিং প্রকল্পের কাজ চলছে। এই প্রকল্প সম্পন্ন হলে রেলপথে চারটি করে লাইন থাকবে। এর মধ্যে দুটি লাইন শুধুমাত্র বন্দে ভারত বা অমৃত ভারত এক্সপ্রেসের মতো দ্রুতগতির ট্রেনগুলোর জন্য বরাদ্দ থাকবে। ফলে কোনো ট্রাফিক জ্যাম ছাড়াই ট্রেন তার নিজস্ব গতিতে ছুটতে পারবে।