দেশের কোথায় Petrol, Diesel এর দাম সবচেয়ে বেশি, জ্বালানির নতুন রেট দেখে নিন

পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের আবহে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ার প্রভাব সরাসরি পড়ল ভারতের জ্বালানি বাজারে। গত ১০ দিনে তিন দফায় মোট প্রায় ৫ টাকা পর্যন্ত দাম বাড়ল পেট্রোল ও ডিজেলের। শুক্রবার ফের মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণায় স্বস্তির আশা প্রায় তলানিতে।

গত ১০ দিনের পরিসংখ্যান: সরকারি খতিয়ান অনুযায়ী, মে মাসের ১৫ তারিখ থেকে এই দাম বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ১৫ মে, ১৯ মে এবং সর্বশেষ ২৩ মে—তিন দফায় মোট প্রায় ৫ টাকা বেড়েছে জ্বালানির দর। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, বিশ্ববাজারে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে আগামী দিনেও এই মূল্যবৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে।

মেট্রো শহরগুলিতে আজকের দাম (২৩ মে, ২০২৬): দেশজুড়ে বিভিন্ন রাজ্যে ভ্যাট (VAT) এবং স্থানীয় করের তারতম্যের কারণে জ্বালানির দাম ভিন্ন হয়। মেট্রো শহরগুলির বর্তমান পরিস্থিতি অনেকটা এইরকম:

  • কলকাতা: এখানে পেট্রোলের দাম পৌঁছে গিয়েছে ১১০.৬৪ টাকা এবং ডিজেল বিকোচ্ছে ৯৭.০২ টাকায়

  • দিল্লি: দেশের রাজধানীতে পেট্রোলের দাম ৯৯.৫১ টাকা এবং ডিজেল ৯২.৪৯ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

  • মুম্বাই: এখানে পেট্রোলের দাম ১০৮.৪৯ টাকা এবং ডিজেল ৯৫.০২ টাকা

  • চেন্নাই: পেট্রোলের দর ১০৫.৩১ টাকা এবং ডিজেল ৯৬.৯৮ টাকা

কেন এই লাগাতার দাম বৃদ্ধি? তেল বিপণন সংস্থাগুলির (OMC) মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বর্তমানে ব্যারেল প্রতি ১০০-১১৫ ডলারের ঘরে ঘোরাফেরা করছে। গত ৪ বছরে জ্বালানির দাম প্রায় স্থিতিশীল থাকলেও, সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে ভারতের আমদানিকৃত তেলের খরচে ব্যাপক চাপ তৈরি হয়েছে। সরকারি মহলের দাবি, সংস্থাগুলির ক্ষতি সামাল দিতেই এই ধাপে ধাপে মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত।

সরবরাহ কি স্বাভাবিক? কিছু এলাকায় পেট্রোল ও ডিজেলের সরবরাহে সাময়িক ঘাটতির খবর পাওয়া গেলেও, সরকার নিশ্চিত করেছে যে দেশে জ্বালানির পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের তরফে নাগরিকদের আতঙ্কিত হয়ে ‘প্যানিক বাইং’ বা অতিরিক্ত তেল না কেনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞের মতামত: বাজার বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময়ের মতো বর্তমান পরিস্থিতি ভারতের অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। তবে ভারত সরকার চলতি বছরের মার্চ মাসে এক্সাইজ শুল্ক ১০ টাকা কমানোর যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, তা খানিকটা সুরক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা না কমলে আগামী দিনগুলোতে সাধারণের পকেটে চাপ বাড়ার আশঙ্কা প্রবল।