কোথাও গণইস্তফা, কোথাও বিক্ষোভ, জেনেনিন ঠিক কী চলছে পুরসভাগুলিতে?

রাজ্যে পালাবদলের হাওয়া বইতেই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে শুরু হয়েছে চরম অস্থিরতা। যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে রাজ্যের পুরসভাগুলোর ওপর। ভাটপাড়া থেকে হালিশহর, একের পর এক পুরসভায় কাউন্সিলরদের গণইস্তফা এবং বেতন না পাওয়ায় কর্মীদের বিক্ষোভে পরিষেবা কার্যত ভেঙে পড়েছে। পরিস্থিতি এতটাই জটিল যে, খোদ মেয়র ফিরহাদ হাকিমের ইস্তফা দেওয়ার জল্পনাও জোরদার হচ্ছে।

কোথায় কী পরিস্থিতি?

  • ভাটপাড়া ও হালিশহর: ভাটপাড়ার ৩৫ জন কাউন্সিলরের মধ্যে ৩০ জনই ইস্তফা দিয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছেন চেয়ারপার্সনও। হালিশহরেও ১৬ জন কাউন্সিলর এবং খোদ চেয়ারম্যান পদত্যাগ করায় পরিষেবা তলানিতে ঠেকেছে। পদত্যাগকারী কাউন্সিলরদের অভিযোগ, দলের পক্ষ থেকে কোনো সাহায্য বা নির্দেশিকা না পাওয়ায় তাঁরা কাজ করতে পারছেন না।

  • উত্তর দমদম: বেতন না পাওয়ার অভিযোগে শুক্রবার পুরসভার গেটে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভে ফেটে পড়েছেন অস্থায়ী কর্মীরা। মাসের পর মাস বেতন না পাওয়ায় চরম সংকটে কর্মীরা।

  • কলকাতা পুরসভা: খোদ মহানগরের পুরসভাতেও চরম অচলাবস্থা। শুক্রবার হাউসের বাইরে ফুটপাতে বসে অধিবেশন করতে হয় তৃণমূল কাউন্সিলরদের। মেয়র ফিরহাদ হাকিম একে ‘চরম অপমান’ বলে উল্লেখ করলেও, দলের অন্দরে তাঁর ইস্তফা দেওয়ার গুঞ্জন তুঙ্গে।

কাউন্সিলরদের বৈঠকে মমতার আর্জি পরিস্থিতি সামাল দিতে কালীঘাটের বাড়িতে কাউন্সিলরদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করেছেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলীয় সূত্রের খবর, কোনোভাবেই যেন কাউন্সিলররা পদত্যাগ না করেন, সেই আর্জি জানিয়েছেন তিনি। তবে তৃণমূলের অন্দরে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এবং দুর্নীতি-তোলাবাজির অভিযোগ যেভাবে সামনে আসছে, তাতে দলনেত্রীর নির্দেশ কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।

অঘটন ও শোকের ছায়া এই রাজনৈতিক টালমাটালের আবহে দক্ষিণ দমদমের তৃণমূল কাউন্সিলর সঞ্জয় দাসের রহস্যজনক মৃত্যু পুরো পরিস্থিতিকে আরও ঘোরালো করে তুলেছে। দুর্নীতি ও তোলাবাজির অভিযোগ থাকা এই নেতার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।

সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ সামনেই বর্ষা, আর তার আগে পুরসভাগুলির এই দশা চিন্তায় ফেলেছে রাজ্য সরকারকে।  মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল ইতিমধ্যেই পুর কমিশনার ও সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেছেন। সমস্যার সমাধান ও পরিষেবা স্বাভাবিক করার জন্য প্রশাসনের হাতে এখন মাত্র ১৮ দিন সময় আছে বলে মন্ত্রীর দাবি। অন্যদিকে, হাওড়া ও বালি পুরনিগমের ভোট ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন করার আশ্বাস দিয়েছেন দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।

সব মিলিয়ে, আসন্ন পুরভোটের আগেই রাজ্যের এই পুর-অচলাবস্থা তৃণমূলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যেভাবে একের পর এক বোর্ড ভাঙছে, তাতে আগামী দিনে আরও বড় কোনো পরিবর্তনের অপেক্ষায় রয়েছে রাজ্য রাজনীতি।

পুরসভাগুলির এই বেহাল দশা আপনার এলাকার পরিষেবাকে কি প্রভাবিত করছে? এই রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটানোর উপায় কী? আপনার মন্তব্য নিচে জানান।