বিধানসভায় ধুন্ধুমার! তৃণমূল কাউন্সিলরদের বিক্ষোভ রুখতে কড়া নিরাপত্তা বলয়ে নবান্ন-বিধানসভা চত্বর

নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র টানাপোড়েন অব্যাহত। একদিকে বিধানসভার অধিবেশন ঘিরে শাসক-বিরোধী তরজা, অন্যদিকে দলের অন্দরে ভাঙন ও নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ তুলে তৃণমূলের রাজপথে নেমে আসার কর্মসূচি—সব মিলিয়ে রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখন চরম সংবেদনশীল। এই পরিস্থিতিতে তৃণমূল কাউন্সিলর ও কর্মীদের সম্ভাব্য বিক্ষোভ রুখতে রাজ্য প্রশাসন পুলিশি নিরাপত্তা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল।

কেন এই বাড়তি নিরাপত্তা? সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। একাধিক পৌরসভায় কাউন্সিলরদের পদত্যাগ এবং বিভিন্ন এলাকায় দলীয় কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগে তৃণমূল বিধায়করা বিধানসভা চত্বরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন। দলীয় সূত্রে খবর, এই বিক্ষোভের আঁচ বাইরে ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং বড় ধরনের আইন-শৃঙ্খলার অবনতি হতে পারে—এই আশঙ্কার ভিত্তিতেই প্রশাসন সতর্ক হয়েছে।

প্রশাসনের পদক্ষেপ:

  • নিরাপত্তার ব্লু-প্রিন্ট: বিধানসভা ও নবান্ন চত্বরে মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। প্রস্তুত রাখা হয়েছে জলকামান ও দাঙ্গা নিরোধক বাহিনী।

  • এন্ট্রি-পয়েন্টে কড়াকড়ি: বিধানসভা সংলগ্ন এলাকাগুলোতে ব্যারিকেড তৈরি করা হয়েছে। সন্দেহভাজনদের পরিচয়পত্র যাচাই না করে কাউকে ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না।

  • গোয়েন্দা নজরদারি: বিক্ষোভকারীদের গতিবিধির ওপর নজর রাখতে সাদা পোশাকে মোতায়েন করা হয়েছে গোয়েন্দা পুলিশের বিশেষ দল।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: নির্বাচন পরবর্তী হিংসা, হকার উচ্ছেদ অভিযান এবং দলের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে তৃণমূল নেতৃত্ব বারবার সুর চড়িয়েছে। বিধানসভার ভেতরে ও বাইরে শাসকদলের এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে গত কয়েকদিন ধরে তীব্র বাদানুবাদ চলছে বিজেপি ও তৃণমূল বিধায়কদের মধ্যে। পুলিশ প্রশাসনের দাবি, বিধানসভার মতো স্পর্শকাতর এলাকায় কোনো ধরনের অশান্তি বা বিশৃঙ্খলা বরদাস্ত করা হবে না।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূলের সাংগঠনিক ভিত শক্ত করতে এবং বিক্ষুব্ধ কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে এই ধরনের বিক্ষোভ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। তবে রাজ্য সরকার কোনোভাবেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে দিতে রাজি নয়। আপাতত পুরো এলাকার পরিস্থিতি পুলিশের কড়া নজরদারিতে রয়েছে।