নিয়োগ দুর্নীতিতে রাজ্যের হারানো ভাবমূর্তি ফেরাই লক্ষ্য! শিয়ালদহের মেলা থেকে বড় বার্তা শুভেন্দু অধিকারীর

পশ্চিমবঙ্গের সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আমূল পরিবর্তন আনার ডাক দিলেন রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার শিয়ালদহের ডঃ বিসি রায় অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘রোজগার মেলা’য় অংশ নিয়ে তিনি স্পষ্ট করলেন, পূর্বতন সরকারের আমলে নিয়োগ দুর্নীতিতে রাজ্যের যে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে, তা মেরামত করাই এখন বর্তমান প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য।

নিয়োগ দুর্নীতির দায়ভার ও নতুন সরকারের অঙ্গীকার:
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আপনারা সবাই জানেন যে, পশ্চিমবঙ্গের অনেক বদনাম হয়ে গেছে। শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি থেকে পুর-নিয়োগ দুর্নীতি—হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের বারবার হস্তক্ষেপ এবং ২৬ হাজার কর্মীর চাকরি বাতিলের মতো ঘটনা রাজ্যের জন্য অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ও লজ্জার।” তিনি জানান, এই ভাবমূর্তি থেকে রাজ্যকে বের করে আনাই এখন সরকারের অন্যতম চ্যালেঞ্জ। নির্বাচনের আগে বিজেপি যে প্রতিশ্রুতিগুলো দিয়েছিল, তা পূরণে সরকার প্রথম থেকেই বদ্ধপরিকর বলে এদিন ফের জানান তিনি।

রোজগার মেলায় নতুন দিশা:
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ১০ লক্ষ চাকরি প্রদানের জাতীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে রোজগার মেলার আয়োজন করা হয়েছিল। এই মেলা থেকে ৫১ হাজার নবনিযুক্ত প্রার্থীকে চাকরির নিয়োগপত্র প্রদান করা হয়েছে। এই মঞ্চ থেকেই মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন, আগামী দিনে সরকারি ও সরকার পোষিত সমস্ত প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত করতে প্রশাসন তৎপর হয়েছে।

আইনি সংস্কারের পথে সরকার:
মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, আগামী বিধানসভার অধিবেশনেই নিয়োগ সংক্রান্ত নতুন আইন আনা হতে পারে। তাঁর কথায়, “স্বচ্ছতার সঙ্গে যাতে পরীক্ষা এবং নিয়োগ হয়, তার জন্য পরিকাঠামো বদল করা হবে।” ওএমআর শিটের কার্বন কপি পরীক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া সহ নিয়োগ প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপকে দুর্নীতিমুক্ত করাই এখন নবান্নের প্রধান অগ্রাধিকার।

রাজ্য সরকারি চাকরির অপেক্ষায় থাকা যুবসমাজের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্য এক নতুন আশার আলো হিসেবে দেখা দিয়েছে, যা পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক জমানায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করছে।