পেট্রোল-ডিজেলের পর এবার সিএনজি! জ্বালানির দাম বাড়ল একলাফে, কত গুনতে হবে পকেটের টাকা?

পেট্রোল-ডিজেলের লাগাতার মূল্যবৃদ্ধির পর এবার সাধারণ মানুষের পকেটে বড় ধাক্কা দিল সিএনজি (CNG)-র দাম। মাত্র ৯ দিনের ব্যবধানে তিনবার বাড়ল কমপ্রেসড ন্যাচরাল গ্যাসের দাম। প্রতি কেজিতে এক টাকা করে বৃদ্ধি পাওয়ায় নিত্যযাত্রী থেকে শুরু করে অটো ও ট্যাক্সি চালকদের মাথায় হাত পড়েছে।

কেন এই লাগাতার মূল্যবৃদ্ধি?
অয়েল মার্কেটিং সংস্থাগুলোর (IOCL, BPCL, HPCL) দাবি, পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে হরমুজ প্রণালী কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। এর ফলে ভারতে জ্বালানি আমদানি ব্যাহত হচ্ছে। সংস্থাগুলোর মতে, এই পরিস্থিতিতে তাদের দৈনিক প্রায় ১৬০০ কোটি টাকা করে আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে, যার বোঝা সাধারণের ওপর এসে পড়ছে।

নতুন দাম কত?
দিল্লি-এনসিআর এলাকায় সিএনজি-র দাম এক টাকা বেড়ে ৮১ টাকা ৯ পয়সা প্রতি কেজি হয়েছে। নয়ডা এবং গাজিয়াবাদে দাম বেড়ে হয়েছে ৮৯ টাকা ৭০ পয়সা। তবে সবথেকে বেশি দাম দিতে হচ্ছে আজমিরের বাসিন্দাদের, সেখানে প্রতি কেজি সিএনজি কিনতে ব্যয় করতে হচ্ছে ৯০ টাকা ৪৪ পয়সা।

উল্লেখ্য, ১৫ মে থেকে এই নিয়ে তিনবার সিএনজি-র দাম বাড়ল। পেট্রোল ও ডিজেলের ক্ষেত্রেও চিত্রটা একই—পেট্রোলে ৮৭ পয়সা এবং ডিজেলে ৯১ পয়সা করে দাম বেড়েছে আজ থেকেই।

পরিবহন ব্যবস্থায় বড় প্রভাব:
সিএনজি-র এই লাগাতার মূল্যবৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়বে পরিবহন ব্যবস্থায়। কারণ:

অটো ও ট্যাক্সি: অধিকাংশ অটো ও ট্যাক্সি এখন সিএনজি-তে চলে। জ্বালানির খরচ বাড়লে অটো ও ট্যাক্সি ভাড়াও যে বাড়বে, তা কার্যত নিশ্চিত।

বাস পরিষেবা: অনেক রাজ্যে সিটি বাস পরিষেবা এখন সিএনজি চালিত। ফলে গণপরিবহনের খরচও ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।

অর্থনীতিবিদদের মতে, জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধি কেবল পরিবহন নয়, বরং বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রেও পরোক্ষ প্রভাব ফেলতে পারে। যুদ্ধের এই আবহে জ্বালানি সংকট কবে কাটবে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।