স্কুলে ফিরছে গণতন্ত্র! পরিচালন সমিতি গঠনে বড় বদল, চেয়ারপার্সন হবেন অভিভাবকরাই

স্কুল শিক্ষাব্যবস্থায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিকে স্বচ্ছতার পথে ফেরাতে এবার বড়সড় পদক্ষেপ নিল প্রশাসন। তৃণমূল সরকারের আমলে তৈরি পুরনো স্কুল পরিচালন সমিতি (Managing Committee) ভেঙে দিয়ে নতুন করে নির্বাচনের পথে হাঁটার নির্দেশিকা জারি হয়েছে। কেন্দ্রীয় নির্দেশ মেনেই এবার স্কুলগুলোতে পরিচালন সমিতি গঠনে আসতে চলেছে আমূল পরিবর্তন।
কীভাবে গঠিত হবে নতুন পরিচালন সমিতি?
নতুন নিয়মে স্কুলের ধরন অনুযায়ী সদস্য সংখ্যা নির্ধারিত করে দেওয়া হয়েছে।
প্রাথমিক স্কুল: ১৫ জন।
মাধ্যমিক স্কুল: ২০ জন।
উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল: ২৫ জন।
এই ২৫ জনের মধ্যে ১৮ জনই থাকবেন অভিভাবক প্রতিনিধি। ২ জন থাকবেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি (প্রশাসন দ্বারা মনোনীত) এবং বাকিরা হবেন স্থানীয় শিক্ষাবিদ। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এবার থেকে স্কুলের চেয়ারপার্সন ও ভাইস চেয়ারপার্সন—উভয় পদেই থাকবেন অভিভাবকরা। স্কুলের প্রধান শিক্ষক থাকবেন সদস্য সচিব হিসেবে।
কাজের নিয়ম ও সময়সীমা:
নতুন নির্দেশিকায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বেশ কিছু কড়া শর্ত দেওয়া হয়েছে:
মেয়াদ: পরিচালন সমিতির মেয়াদ হবে ২ বছর।
সদস্যপদ: প্রধান শিক্ষক ছাড়া কোনো সদস্যই টানা দুই মেয়াদের বেশি পদে থাকতে পারবেন না।
বৈঠক: প্রতি মাসে পরিচালন সমিতির বৈঠক করা বাধ্যতামূলক। পাশাপাশি বছরে অন্তত একবার সমস্ত অভিভাবকদের নিয়ে বার্ষিক সভা করতে হবে।
সময়: শিক্ষাবর্ষ শুরুর এক মাসের মধ্যেই নতুন কমিটি গঠন করতে হবে।
শিক্ষক মহলে প্রতিক্রিয়া:
নতুন এই ব্যবস্থাকে স্বাগত জানিয়েছেন শিক্ষক সংগঠনের নেতারা। শিক্ষক নেতা চন্দন মাইতির মতে, জাতীয় শিক্ষানীতি (NEP) অনুযায়ী এই পরিবর্তন শিক্ষার পরিবেশকে ঢেলে সাজাতে সাহায্য করবে। শিক্ষক নেতা স্বপন মণ্ডল বলেন, “আগে রাজনৈতিক মদতপুষ্ট লোকেদের দিয়ে কমিটি তৈরি হতো। এখন ৭৫ শতাংশই অভিভাবক প্রতিনিধি থাকায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের সুযোগ অনেকাংশেই কমে যাবে।”
তবে কিংকর অধিকারীর মতো অনেকেরই দাবি, এই নতুন ব্যবস্থাতেও যেন কোনোভাবেই রাজনৈতিক ছায়া না পড়ে, সেদিকে কড়া নজর রাখতে হবে। অভিভাবকদের ক্ষমতায়ন ঘটলে স্কুলের উন্নয়নমূলক কাজ যে আরও ত্বরান্বিত হবে, তা নিয়ে আশাবাদী শিক্ষা মহল।