“কোনও ঋতব্রত, সত্যব্রত, পরমব্রত, চিত্তব্রতদের BJP-তে জায়গা নেই”-জানিয়ে দিলেন শমীক

রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে একটি শব্দবন্ধ বেশ চর্চায়— ‘পাল্টি’। তৃণমূল কংগ্রেসের একাংশ নেতার বিজেপিতে যোগদানের জল্পনা যখন তুঙ্গে, তখন সেই জল্পনায় জল ঢেলে সাফ জানিয়ে দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, বিজেপিতে তৃণমূল নেতাদের জন্য আপাতত ‘দরজা বন্ধ’।

তৃণমূলের অন্দরে বিদ্রোহের আঁচ: সম্প্রতি তৃণমূলের একাধিক নেতা প্রকাশ্যে দলের অন্দরের দুর্নীতি নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন। বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো নেতারা সরাসরি তৃণমূলের একাংশের বিরুদ্ধে অন্তর্ঘাতের অভিযোগ তুলছেন। সম্প্রতি দিল্লিতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে ঋতব্রতর সৌজন্য সাক্ষাৎ ঘিরেও নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে। যদিও ঋতব্রত এই ঘটনাকে নিছকই ‘সৌজন্যমূলক’ বলে দাবি করেছেন। পাশাপাশি, টলিউড অভিনেতা পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের মতো ব্যক্তিত্বদের নিয়ে চলা রাজনৈতিক চর্চাও পরিস্থিতিকে আরও ঘোরালো করে তুলেছে।

‘দরজা বন্ধ’— সাফ বার্তা শমীকের: এই সমস্ত জল্পনার মাঝেই বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য দলের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, “বিজেপির তৃণমূলীকরণ হতে দেওয়া হবে না। কোনও ঋতব্রত, সত্যব্রত, পরমব্রত বা চিত্তব্রত—এঁদের জায়গা বর্তমানে বিজেপিতে নেই। দরজা বন্ধ।”

শমীক আরও দাবি করেন যে, বিজেপি বর্তমানে নিজস্ব শক্তিতে এবং হার্ডকোর কর্মীদের মাধ্যমেই এগিয়ে চলেছে। তাঁর কথায়, “আমরা নিজের কর্মীদের ওপর ভরসা করেই ২০৬ আসনে পৌঁছেছি। খুব শীঘ্রই তা ২০৭ হবে। নতুন করে তৃণমূলের কোনো নেতাকে আমদানি করার প্রয়োজন বিজেপির নেই।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষণ: রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর বিজেপি চাইছে তাদের দলীয় কর্মীদের মনোবল অটুট রাখতে। পুরনো কর্মীদের বাদ দিয়ে তৃণমূল থেকে আসা নেতাদের অগ্রাধিকার দিলে দলের অন্দরে বিদ্রোহ দানা বাঁধতে পারে, এই আশঙ্কা থেকেই সম্ভবত শমীক ভট্টাচার্য এই কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। বিজেপি নেতৃত্বের এই ‘নো এন্ট্রি’ বার্তা তৃণমূল নেতাদের জন্য বড় ধাক্কা বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

(তথ্যসূত্র: রাজনৈতিক ঘটনাক্রম ও বিবৃতি)