মমতার বৈঠকে বড়সড় ধাক্কা! দেবাশিস কুমার-সহ ৪০ কাউন্সিলরের অনুপস্থিতিতে তুঙ্গে জল্পনা

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে কাউন্সিলরদের একাংশের অনুপস্থিতি ঘিরে শোরগোল পড়ে গেল তৃণমূলের অন্দরে। জানা গেছে, শহরের উন্নয়ন ও সাংগঠনিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য ডাকা এই বৈঠকে দেবাশিস কুমার-সহ প্রায় ৪০ জন কাউন্সিলর উপস্থিত ছিলেন না। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসকদলের অন্দরে ‘বিদ্রোহের’ আঁচ পাওয়ার চেষ্টা করছে রাজনৈতিক মহল।
কী ঘটেছিল বৈঠকে? পুরসভার উন্নয়নমূলক কাজের গতিপ্রকৃতি এবং বিভিন্ন ওয়ার্ডের সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে এদিন জরুরি তলব করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু সভার শুরুতে যখন দেখা যায় যে, মেয়র পারিষদ দেবাশিস কুমার-সহ দলের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী কাউন্সিলরই সেখানে নেই, তখন পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পরও অনেকের দেখা না মেলায় অস্বস্তিতে পড়ে যান দলের শীর্ষ নেতৃত্ব।
মমতার বার্তা: এদিন পরিস্থিতি সামাল দিতে আসরে নামেন স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কাউন্সিলরদের অনুপস্থিতি বা পরবর্তী কোনো কানাঘুষোকে উড়িয়ে দিয়ে তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “দল অটুট আছে, কেউ পদত্যাগ করবে না।” তিনি কাউন্সিলরদের মধ্যে সমন্বয় বজায় রেখে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং কোনো ধরনের বিভ্রান্তি যেন না ছড়ায়, সে বিষয়েও সতর্ক করেছেন।
কেন এই অনুপস্থিতি? রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই অনুপস্থিতি নেহাত কাকতালীয় নয়। পুরসভার অন্দরে প্রশাসনিক কাজের বণ্টন এবং বিভিন্ন ওয়ার্ডের বরাদ্দ নিয়ে কাউন্সিলরদের একাংশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চাপা ক্ষোভ ছিল। সেই ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ কি এই গরহাজিরা? যদিও দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ব্যক্তিগত ব্যস্ততা বা অন্য কাজের কারণে অনেকে আসতে পারেননি।
নেপথ্যের সমীকরণ: সাম্প্রতিক সময়ে কলকাতার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের টেন্ডার ও কাজের তদারকি নিয়ে মেয়রের সঙ্গে অনেকেরই মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে বলে খবর। আজ প্রায় ৪০ জন কাউন্সিলরের অনুপস্থিতি সেই দূরত্বেরই ইঙ্গিত কি না, তা নিয়ে বাড়ছে রাজনৈতিক চর্চা।
তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব এখন এই কাউন্সিলরদের সঙ্গে আলাদা করে কথা বলে ভুল বোঝাবুঝি মেটানোর চেষ্টা করবেন বলে জানা গেছে। তবে এই ঘটনা যে পুরসভার অন্দরের টালমাটাল পরিস্থিতির জানান দিচ্ছে, তা স্বীকার করছেন অনেকেই।
আপনার কি মনে হয়, কাউন্সিলরদের এই অনুপস্থিতি কি পুরসভার কাজে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে? তৃণমূলের অন্দরের এই পরিস্থিতি নিয়ে আপনার কী মত?