পুরসভা কি পার্টি অফিস? ফিরহাদ হাকিমের বিরুদ্ধে গর্জে উঠলেন সজল ঘোষ!

কলকাতা পুরসভার মাসিক অধিবেশন হওয়া নিয়ে শুক্রবার চরম বিশৃঙ্খলা ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ল পুরভবনে। অধিবেশন স্থগিত রাখা এবং তারপরেই তৃণমূল কাউন্সিলরদের নিয়ে আয়োজিত একটি সভাকে কেন্দ্র করে বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ সরাসরি মেয়র ফিরহাদ হাকিম ও চেয়ারপার্সন মালা রায়কে নিশানা করলেন।
ঠিক কী ঘটেছিল শুক্রবার? শুক্রবার পুরসভার মাসিক অধিবেশন হওয়ার কথা ছিল। তার আগে মেয়র পারিষদের বৈঠকও বাতিল হয়। কিন্তু এরপরেই এক নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অধিবেশন কক্ষ তালাবন্ধ থাকায় পুরসভার করিডোরেই তৃণমূল কাউন্সিলরদের নিয়ে এক সভা আয়োজন করা হয়। সেই সভায় উপস্থিত ছিলেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম এবং চেয়ারপার্সন মালা রায়। এই সভাকেই সম্পূর্ণ ‘বেআইনি’ বলে দাগিয়েছেন সজল ঘোষ।
কী অভিযোগ সজল ঘোষের? ক্ষুব্ধ সজল ঘোষের দাবি, পুরসভা কোনো ব্যক্তিগত বৈঠকখানা বা শাসকদলের পার্টি অফিস নয়। তিনি বলেন, “কমিশনারের অথরিটি নিয়ে হাউস করতে হয়। কেন বিরোধীদের ডাকা হলো না? এই বেআইনি কাজের নেতৃত্ব দিয়েছেন খোদ মেয়র এবং চেয়ারপার্সন। যদি এর সদুত্তর না দেওয়া হয়, তবে ভবিষ্যতে কোনো হাউস চলতে দেওয়া হবে না।”
বিজেপি বিধায়কের অভিযোগ, অতীতেও ‘টক টু মেয়র’-এর জন্য বা বিধানসভায় যাওয়ার অছিলায় ইচ্ছামতো হাউস বাতিল করা হয়েছে। নিয়ম ভেঙে এই ধরনের কার্যকলাপের তীব্র নিন্দা করে তিনি হুঙ্কার দেন, “প্রয়োজনে পুরসভা ভেঙে দেওয়া হোক। অনাস্থা আনলে মেয়র নিজের গদি বাঁচাতে পারবেন কি না, সেই প্রশ্নও থেকেই যায়।”
রাজনীতির অন্দরে তোলপাড়: পুরসভার অন্দরে অধিবেশন কক্ষের বাইরে তৃণমূল কাউন্সিলরদের এই সভাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে। একদিকে যখন শাসকদল নিজেদের ঘরোয়া বৈঠক নিয়ে ব্যস্ত, অন্যদিকে বিরোধী বিজেপি বিধায়কের এই কঠোর অবস্থানে পুরসভার অন্দরে অশান্তির পারদ চড়ছে। বিরোধীদের অভিযোগ, গণতান্ত্রিক রীতিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে পুরনিগমকে তৃণমূলের শাখা সংগঠনে পরিণত করা হয়েছে।
এখন দেখার বিষয়, সজল ঘোষের এই অনাস্থার হুঁশিয়ারি এবং প্রশ্নের প্রেক্ষিতে পুর কর্তৃপক্ষ কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেয় কি না, নাকি পুরসভার অন্দরে আগামী দিনে এই সংঘাত আরও বড় আকার ধারণ করে।