“কলমা পাঠ করিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল…!”-পহেলগাঁও হামলার মাস্টারমাইন্ডের হদিশ পেল NIA

পহেলগাঁও সন্ত্রাসবাদী হামলার নেপথ্যে থাকা মূল চক্রীদের শনাক্ত করতে সক্ষম হলো জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)। হামলার পর দীর্ঘ তদন্ত ও তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সম্প্রতি যে চার্জশিট প্রকাশ্যে এসেছে, তা থেকে স্পষ্ট— এই নাশকতার মাস্টারমাইন্ড ছিল লস্কর-ই-তৈবার সহযোগী সংগঠন ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ বা TRF।

হামলার নেপথ্যে কারা? তদন্তে জানা গেছে, এই হামলার মূল পরিকল্পনাকারী সাজ্জাদ জাট ওরফে আলি ভাই। সরাসরি হামলায় অংশ নিয়েছিল তিন কুখ্যাত জঙ্গি— ফয়জল জাট (সুলেমান), হাবিব তাহির (ছোটু) এবং হামজা আফগানি। হামলার পরপরই TRF দায় স্বীকার করলেও, পরে কৌশলে বিবৃতি প্রত্যাহার করে নিয়েছিল, যা তাদের অপরাধমূলক মানসিকতারই প্রমাণ বলে মনে করছেন গোয়েন্দারা।

তদন্তের অভিনব মোড়: জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের হাত থেকে মামলাটি হস্তান্তরের পর থেকেই তদন্তে গতি বাড়ায় NIA। দুর্গম পাহাড়ি পথ, যেখানে সরাসরি কোনো যানবাহন পৌঁছায় না এবং সিসিটিভি ক্যামেরার অস্তিত্ব নেই, সেই এলাকাটিকে হামলার জন্য বেছে নিয়েছিল জঙ্গিরা।

তদন্তের খাতিরে NIA স্থানীয় দোকানদার, ঘোড়ার মালিক ও ট্যাক্সি চালকসহ ১,১১৩ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এই জেরাই তদন্তের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। এক অজ্ঞাতপরিচয় সাক্ষী তদন্তকারীদের জানান, হামলার আগের দিন তিনি তিন সশস্ত্র জঙ্গিকে ঘুরতে দেখেছিলেন। সবচেয়ে রোমহর্ষক তথ্যটি দেন তিনি নিজেই— জঙ্গিরা তাঁকে ধরে ফেলে এবং কলমা পাঠ করতে বাধ্য করে। পরে তাঁকে ছেড়ে দেয় তারা।

প্রযুক্তির নিখুঁত ব্যবহার: ঘটনার কিনারা করতে সিবিআইয়ের সহায়তায় ওই এলাকার একটি থ্রিডি (3D) ম্যাপিং তৈরি করে NIA। গত ৩০ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া বিশাল গ্রিড সার্চ অভিযানে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ ও নিরাপত্তা বাহিনী জঙ্গিদের গতিবিধি ও পালানোর পথ সম্পর্কে নিশ্চিত হয়। বৈসরণ উপত্যকার ভৌগোলিক অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে জঙ্গিরা কীভাবে এই নারকীয় হামলা চালিয়েছিল, তার প্রতিটি খুঁটিনাটি এখন NIA-র হাতে।

এই চার্জশিট প্রকাশের ফলে পহেলগাঁও হামলার মূল ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ফাঁস যে আরও জোরদার হলো, তা বলাই বাহুল্য। এখন মূল অপরাধীদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোই তদন্তকারী সংস্থার প্রধান চ্যালেঞ্জ।