দিল্লিতে বড়সড় উত্তেজনা! ডিডিএ-র জমিতে ‘অবৈধ’ মাদ্রাসা ভাঙলেন বিজেপি বিধায়ক করনাইল সিং

দিল্লির শাকুর বস্তি বিধানসভা কেন্দ্রের পিতমপুরা এলাকায় একটি ধর্মীয় স্থাপনা ভাঙাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার উত্তপ্ত হয়ে উঠল পরিস্থিতি। বিজেপির বিধায়ক এবং দলের টেম্পল সেলের সভাপতি করনাইল সিং তাঁর কর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে ওই স্থাপনাটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছেন। বিধায়কের দাবি, ডিডিএ (DDA)-এর জমিতে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে ওই মাদ্রাসাটি নির্মাণ করা হচ্ছিল।
বিধায়কের হুঁশিয়ারি ও দাবি
ঘটনার পর বিধায়ক করনাইল সিং স্পষ্ট জানিয়েছেন, “এই স্থাপনাটি বেআইনিভাবে মাদ্রাসা হিসেবে তৈরি করা হচ্ছিল। আমরা তা ভেঙে দিয়েছি।” একইসঙ্গে তিনি ওই মাদ্রাসার পাশে থাকা আরও একটি ভবন, যা স্থানীয়রা মসজিদ হিসেবে দাবি করছেন, সেটি নিয়েও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। বিধায়কের দাবি, আদালত জমিটি খালি করার নির্দেশ দিয়েছে কারণ এটি ডিডিএ-র সম্পত্তি। তিনি বলেন, “আমি আমার নির্বাচনী এলাকায় কোনো অবৈধ মাদ্রাসা বা মসজিদ নির্মাণ হতে দেব না।”
পুলিশি তৎপরতা ও পরিস্থিতি
ঘটনার খবর পাওয়ার পরেই এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে ঘটনাস্থলে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়। পুলিশ উভয় পক্ষের লোকজনকে শান্ত থাকার আবেদন জানিয়েছে এবং ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে যাতে কোনো বড় ধরনের অশান্তি বা দাঙ্গা না ঘটে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
উল্লেখ্য, করনাইল সিং গত ২০২৫ সালের দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনে শাকুর বস্তি আসন থেকে আম আদমি পার্টির (আপ) প্রবীণ নেতা সত্যেন্দ্র জৈনকে পরাজিত করে প্রথমবারের মতো বিধায়ক নির্বাচিত হন। তিনি বরাবরই তাঁর কট্টর হিন্দুত্ববাদী ভাবমূর্তির জন্য পরিচিত। অতীতে রাস্তায় নামাজ পড়ার বিরোধিতা করে পুলিশের কাছে চিঠি লিখেও তিনি চর্চায় এসেছিলেন। বিধায়কের এই পদক্ষেপকে ‘বিভাজনমূলক রাজনীতি’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে সমালোচনায় সরব হয়েছে আম আদমি পার্টি। বিরোধী পক্ষের দাবি, এটি একটি নির্দিষ্ট ধর্মকে লক্ষ্য করে নেওয়া একতরফা এবং প্ররোচনামূলক পদক্ষেপ।
এডিটরস নোট: সরকারি জমিতে অবৈধ নির্মাণ নিয়ে আইন তার নিজস্ব গতিতে চলার কথা থাকলেও, জনবহুল এলাকায় এ ধরনের অভিযান ঘিরে সবসময়ই উত্তেজনা তৈরির ঝুঁকি থাকে। প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এ বিষয়ে দ্রুত সুরাহা করা প্রয়োজন যাতে শান্তি বজায় থাকে।