কিউবার পাশে সিপিএম, কিন্তু কেরলের হারে কোণঠাসা! পিনারাই বিজয়নের অনুপস্থিতিতে বাড়ছে অস্বস্তি।

আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে কিউবার পাশে দাঁড়িয়ে সংহতি প্রকাশের ডাক দিল সিপিএম। কিন্তু দলের অভ্যন্তরেই এখন অস্বস্তির কালো মেঘ। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে কিউবার পরিস্থিতির ওপর জোর দেওয়া হলেও, কেরলের ভরাডুবির পর দলের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে যে গভীর ক্ষত তৈরি হয়েছে, তা স্পষ্ট হয়ে উঠল পিনারাই বিজয়নের অনুপস্থিতিতে।

কিউবার পাশে সিপিএম বৈঠকে কিউবার ওপর মার্কিন অর্থনৈতিক অবরোধের তীব্র নিন্দা করেছে সিপিএম নেতৃত্ব। কিউবার বিপ্লব ও সেখানকার সমাজতান্ত্রিক কাঠামোর সমর্থনে দলের সর্বভারতীয় স্তরে প্রচার চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক রাজনীতির এই ইস্যুতে সিপিএম যে বরাবরই আপসহীন, তা আবারও প্রমাণিত হলো।

বিজয়নের অনুপস্থিতি ও কেরল ইস্যু তবে কিউবা ইস্যুর চেয়েও এদিন দলের অন্দরে বেশি চর্চায় ছিল কেরলের শোচনীয় ফলাফল। ঐতিহ্যগতভাবে কেরল সিপিএমের ‘গড়’ হিসেবে পরিচিত। সেখানে দলের এই হার যে শুধুমাত্র একটি নির্বাচনী বিপর্যয় নয়, বরং সাংগঠনিক কাঠামোর বড় ত্রুটি, তা মেনে নিচ্ছেন দলেরই একাংশ। আর এই উত্তপ্ত আবহে মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে যোগ না দেওয়া জল্পনাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের হারের দায় এবং সাংগঠনিক কৌশলের প্রশ্নে দলের ভেতর বিজয়ন বিরোধীদের সরব হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

দলের অন্দরে অস্বস্তি কেরলের এই পরাজয় সিপিএমের জাতীয় রাজনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলেছে। রাজ্যে দলের প্রভাব খর্ব হওয়ায় এখন দিল্লির অন্দরেও কৌশল বদলের চাপ বাড়ছে। কেন্দ্রীয় কমিটি বৈঠকে কিউবার মতো আন্তর্জাতিক ইস্যু তুলে ধরা হলেও, অভ্যন্তরীণ সাংগঠনিক ব্যর্থতা ধামাচাপা দেওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন প্রবীণ নেতারাও।

এখন দেখার, পিনারাই বিজয়নের এই ‘অনিচ্ছাকৃত’ অনুপস্থিতি কি দলের ভেতর কোনো বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত, নাকি কোনো দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক টানাপোড়েনের সূত্রপাত?

এই বিষয়ে কি আপনার মনে কোনো বিশেষ প্রশ্ন আছে বা বিষয়টি নিয়ে আরও বিস্তারিত বিশ্লেষণ প্রয়োজন?