তৃণমূলের আন্দোলনকে চাঁছাছোলা ভাষায় আক্রমণ রুদ্রনীলের! ‘বুলডোজার’ বিতর্কে ঠিক কী বললেন বিজেপি নেতা?

জাতীয় রাজনীতিতে ‘বুলডোজার’ জাস্টিস বা বুলডোজার নীতি নিয়ে বিতর্ক দীর্ঘদিনের। আর এবার সেই বুলডোজার ইস্য়ুতেই রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকে চাঁছাছোলা ভাষায় আক্রমণ শাণালেন অভিনেতা তথা বিজেপি নেতা রুদ্রনীল ঘোষ। নিজের চেনা কায়দায় তীব্র শ্লেষ ও উপহাস ছুড়ে দিয়ে তিনি সাফ জানালেন, যারা রাজ্যে বিরোধীদের গণতান্ত্রিক অধিকার গুঁড়িয়ে দিতে চায়, তাদের মুখে বুলডোজার নিয়ে প্রতিবাদ সাজে না। তাঁর এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই টলিপাড়া থেকে শুরু করে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
বিতর্কের সূত্রপাত কোথায়?
সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দমনে বা উচ্ছেদ অভিযানে বুলডোজারের ব্যবহার নিয়ে সরব হয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব একে স্বৈরাচারী পদক্ষেপ বলে তীব্র নিন্দা করে রাজপথে প্রতিবাদে নামে। শাসকদলের সেই প্রতিবাদ আন্দোলনকেই এবার সরাসরি নিশানা করেছেন রুদ্রনীল।
তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ রুদ্রনীলের
তৃণমূলের এই প্রতিবাদের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রুদ্রনীল ঘোষ বলেন, অন্যের ঘরের বুলডোজার দেখার আগে শাসকদলের উচিত নিজেদের দিকে তাকানো। রাজ্যের একাধিক ইস্যু টেনে এনে তিনি বলেন:
“যাঁরা বুলডোজার নীতি নিয়ে এত কান্নাকাটি করছেন, তাঁরা ভুলে যাচ্ছেন যে এ রাজ্যে বছরের পর বছর ধরে বিরোধী দলগুলির ওপর কোন ধরনের রাজনৈতিক বুলডোজার চালানো হয়েছে। চাকরিপ্রার্থীদের ভবিষ্যৎ যখন দুর্নীতির বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছিল, তখন এই দরদ কোথায় ছিল? অন্যের রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে কথা বলার আগে, নিজেদের রাজ্যের দুর্নীতিগুলো আগে বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে পরিষ্কার করা উচিত।”
পাল্টা সুর চড়ালো শাসকদলও
রুদ্রনীল ঘোষের এই বিস্ফোরক মন্তব্যের পর চুপ করে বসে থাকেনি তৃণমূল শিবিরও। দলের পক্ষ থেকে পাল্টা কটাক্ষ করে বলা হয়েছে, “রুদ্রনীল ঘোষ আসলে বিজেপিতে নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে মাঝেমধ্যেই এমন প্ররোচনামূলক ও ভিত্তিহীন মন্তব্য করেন। সুপ্রিম কোর্ট যেখানে বুলডোজার সংস্কৃতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, সেখানে রুদ্রনীল বাবুরা আইন বহির্ভূত কাজকে সমর্থন করছেন, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সিনেমা ও রাজনীতির মিশেলে রুদ্রনীল ঘোষ বরাবরই সোশ্যাল মিডিয়া বা প্রকাশ্য সভায় শাসকদলকে কোণঠাসা করতে ছড়া বা তীক্ষ্ণ বাণ ব্যবহার করেন। এবার বুলডোজার ইস্যুকে কেন্দ্র করে তাঁর এই নতুন আক্রমণ আগামী দিনে শাসক ও বিরোধী শিবিরের বাকযুদ্ধকে আরও তীব্র করবে বলেই মনে করা হচ্ছে।