শুভেন্দু অধিকারীকে চ্যালেঞ্জ করা সেই ‘পবিত্র’ এবার পদ্ম ছাড়লেন! ভোটের আগে নন্দীগ্রামে কেন এই তুমুল বিদ্রোহ?

পূর্ব মেদিনীপুরের হাই-প্রোফাইল রাজনৈতিক ক্ষেত্র নন্দীগ্রামের অন্দরে ফের একবার বড়সড় ওলটপালট। শুভেন্দু অধিকারীর গড় হিসেবে পরিচিত এই এলাকায় রাজনৈতিক সমীকরণ এক লহমায় বদলে গেল। দীর্ঘদিন ধরে অধিকারী পরিবারের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলয়ে পরিচিত এবং শুভেন্দুর অন্যতম ছায়াসঙ্গী পবিত্র কর (Pabitra Kar) দল থেকে ইস্তফা দিলেন। শুধু পবিত্রবাবুই নন, তাঁর সঙ্গে রাজনীতিতে সক্রিয় তাঁর স্ত্রী শিউলি করও গ্রাম পঞ্চায়েত তথা দলীয় সমস্ত পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২১ মে, ২০২৬) রাতে এই মেগা ইস্তফার খবর সামনে আসতেই পূর্ব মেদিনীপুরের রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।

কারা এই পবিত্র ও শিউলি কর? কেন এই ইস্তফা?

নন্দীগ্রামের স্থানীয় রাজনীতিতে পবিত্র কর এবং তাঁর স্ত্রী শিউলি কর অত্যন্ত প্রভাবশালী নাম। গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে দলীয় স্তরে শুভেন্দু অধিকারীকে কার্যত চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে নিজেদের রাজনৈতিক শক্তির জানান দিয়েছিলেন তাঁরা। একসময় শুভেন্দুর খাস অনুগামী হিসেবে পরিচিত হলেও, গত কিছু দিন ধরে দলের স্থানীয় নেতৃত্বের একাংশের সঙ্গে তাঁদের তীব্র মতবিরোধ তৈরি হচ্ছিল বলে খবর।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নন্দীগ্রামের গ্রাম পঞ্চায়েতের অভ্যন্তরীণ দলীয় কোন্দল এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁদের গুরুত্ব না দেওয়ায় ক্ষোভ জমছিল দীর্ঘদিন ধরে। শেষ পর্যন্ত মান-অভিমানের লড়াইয়ে দল ও পদ দুই ছাড়ার পথই বেছে নিলেন এই দম্পতি।

ইস্তফা নিয়ে কী বলছেন পবিত্র কর?

পদত্যাগের পর অত্যন্ত ক্ষোভের সুরে পবিত্র করের ঘনিষ্ঠ মহল থেকে জানানো হয়েছে, দলে যোগ্য কাজের মূল্যায়ন হচ্ছিল না। একনায়কতন্ত্রের পরিবেশ তৈরি হওয়ায় সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করা অসম্ভব হয়ে উঠছিল। তাই নিজেদের আত্মসম্মান বজায় রাখতেই এই চরম সিদ্ধান্ত।

বিজেপি শিবিরের অন্দরে অস্বস্তি: নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর নিজের বিধানসভা কেন্দ্রে এমন দুই প্রভাবশালী নেতার ইস্তফা গেরুয়া শিবিরের জন্য বড় ধাক্কা বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে আসন্ন নির্বাচনের আগে এই সাংগঠনিক ভাঙন বিজেপির ভোটব্যাঙ্কে থাবা বসাতে পারে। যদিও স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, এই ইস্তফায় দলের সার্বিক সংগঠনে কোনো প্রভাব পড়বে না এবং আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি মিটিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।

কোন পথে পা বাড়াচ্ছেন পবিত্র-শিউলি?

এই ইস্তফার পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, তবে কি এবার ঘাসফুল শিবিরের দিকে পা বাড়াচ্ছেন পবিত্র কর ও শিউলি কর? তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় নেতৃত্ব ইতিমধ্যেই এই ঘটনাকে স্বাগত জানিয়ে কটাক্ষ করেছে, “বিজেপিতে কোনো ভদ্রলোক থাকতে পারেন না। শুভেন্দু অধিকারীর পায়ের তলা থেকে মাটি যে সরছে, এই ইস্তফা তারই প্রমাণ।”

এখন দেখার, নন্দীগ্রামের রাজনীতির এই দুই হেভিওয়েট ‘লড়াকু’ মুখ শেষ পর্যন্ত কোন নতুন রাজনৈতিক ছাতার তলায় আশ্রয় নেন, নাকি নির্দল হিসেবেই শুভেন্দু অধিকারীকে টক্কর দেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেন।