রাম মন্দিরের সুবাস ছড়াবে এবার খোদ অযোধ্যা থেকেই! ফুলের বাজারে বড়সড় বিপ্লব আনতে কী মাস্টারস্ট্রোক যোগী আদিত্যনাথের?

রাম মন্দির উদ্বোধনের পর থেকেই বদলে গিয়েছে পুণ্যভূমি অযোধ্যার চেনা ছবিটা। প্রতিদিন লাখো ভক্তের সমাগম আর উৎসবের আমেজে সেজে উঠছে এই পবিত্র শহর। আর এবার অযোধ্যাকে কেন্দ্র করে এক ঐতিহাসিক ও সুগন্ধী সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে যোগী আদিত্যনাথের সরকার। রামলালার নিত্যপূজা এবং রাম মন্দিরের রাজকীয় সাজসজ্জার জন্য সেরা ফুল এবার মিলবে খোদ অযোধ্যাতেই। এই লক্ষ্য পূরণে সেখানে তৈরি হতে চলেছে উত্তরপ্রদেশের প্রথম অত্যাধুনিক ‘ফ্লাওয়ার সেন্টার’ বা ফুল প্রক্রিয়াকরণ ও বিপণন কেন্দ্র।

কেন এই উদ্যোগ? ভিন রাজ্যের ওপর নির্ভরতা কমানোর ছক

বর্তমানে রাম মন্দিরে প্রতিদিন যে বিপুল পরিমাণ গাঁদা, গোলাপ, রজনীগন্ধা এবং পদ্ম ফুলের প্রয়োজন হয়, তার একটা বড় অংশ আসে দিল্লি, বেঙ্গালুরু, কলকাতা এবং বারাণসী থেকে। দূর থেকে ফুল আসার কারণে অনেক সময় তা শুকিয়ে যায় এবং পরিবহন খরচও হয় প্রচুর। এই নির্ভরতা কাটাতে এবং অযোধ্যাকে ফুলের বাজারে স্বনির্ভর করতেই এই মেগা প্রজেক্টের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

কেমন হবে উত্তরপ্রদেশের এই প্রথম ‘ফ্লাওয়ার সেন্টার’?

উদ্যানপালন দফতর এবং অযোধ্যা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এই কেন্দ্রটি শুধু একটি ফুলের বাজার হবে না, বরং এটি হবে একটি সম্পূর্ণ ইকো-সিস্টেম:

  • কোল্ড স্টোরেজ পরিকাঠামো: ফুল যাতে দীর্ঘক্ষণ সতেজ এবং টাটকা থাকে, তার জন্য তৈরি হচ্ছে বিশাল কোল্ড স্টোরেজ সুবিধা।

  • চাষিদের আধুনিক প্রশিক্ষণ: অযোধ্যা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার স্থানীয় চাষিদের উন্নত ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ফুল চাষের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

  • স্টার্ট-আপ এবং সুগন্ধী শিল্প: মন্দিরে নিবেদিত ফুলগুলি ফেলে না দিয়ে, সেগুলি দিয়ে ধূপকাঠি, সুগন্ধী তেল এবং অর্গানিক আবির তৈরির জন্য বিশেষ ইউনিট গড়া হবে।

প্রশাসনের বক্তব্য: “এই ফ্লাওয়ার সেন্টারটি গড়ে উঠলে রাম মন্দিরের ফুলের চাহিদা যেমন স্থানীয়ভাবেই মিটে যাবে, তেমনই অযোধ্যা ও সংলগ্ন অঞ্চলের হাজার হাজার কৃষক ও বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত খুলে যাবে। এটি ধর্মীয় পর্যটনের পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিকেও চাঙ্গা করবে।”

অর্থনৈতিক বিপ্লবের মুখে অযোধ্যা

রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, যোগী সরকারের এই মাস্টারস্ট্রোক অযোধ্যাকে উত্তর ভারতের অন্যতম বড় ফ্লোরিকালচার হাব (Floriculture Hub) বা ফুল ব্যবসার কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করবে। ভিন রাজ্য থেকে ফুল আমদানির খরচ বাঁচিয়ে স্থানীয় স্তরে ব্যবসা বাড়লে রামলালার চরণে নিবেদিত প্রতিটি ফুলই হয়ে উঠবে স্বনির্ভর ভারতের এক একটি প্রতীক। খুব শীঘ্রই এই ফ্লাওয়ার সেন্টারের ব্লু-প্রিন্ট বাস্তবায়িত হতে চলেছে বলে জানা গিয়েছে।