লক্ষ্যমাত্রা থেকে যোজন দূরে মালদার বিখ্যাত আম! মাথায় হাত হাজার হাজার চাষির, নেপথ্যে কোন খলনায়ক?

আমের মরশুম শুরু হতেই যার স্বাদের জন্য চাতক পাখির মতো অপেক্ষা করে থাকে গোটা বিশ্ব, সেই মালদার আম নিয়েই এবার সামনে এল অত্যন্ত উদ্বেগজনক খবর। প্রকৃতির খামখেয়ালিপনায় চলতি মরশুমে মালদা জেলায় আমের ফলন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক অনেক দূরে থমকে গিয়েছে। ফলন এক ধাক্কায় এতটা কমে যাওয়ায় যেমন মাথায় হাত পড়েছে জেলার হাজার হাজার আমচাষি ও ব্যবসায়ীদের, তেমনই মরশুমের শুরুতে আম-রসিকদের পকেটেও বড়সড় টান পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

প্রকৃতির মার: কেন এই বিপর্যয়?

মালদা জেলা উদ্যানপালন দফতর এবং স্থানীয় চাষিদের সূত্রে জানা গিয়েছে, এবছর আমের ফলন বিপর্যয়ের পিছনে রয়েছে আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনা ও জলবায়ু পরিবর্তন। প্রধান যে কারণগুলি আমের ফলনে থাবা বসিয়েছে, সেগুলি হলো:

  • মুকুল আসার সময়েই বিপত্তি: শীতের শেষে যখন আম গাছে মুকুল আসার কথা, তখন হঠাৎই কুয়াশা এবং অসময়ের বৃষ্টির কারণে বহু গাছের মুকুল নষ্ট হয়ে যায়।

  • অতিরিক্ত দাবদাহ ও ‘লু’ (Loo): গরমের শুরুতেই পারদ চড়তে শুরু করে রেকর্ড হারে। তীব্র গরম এবং গরম বাতাসের কারণে আমের গুটি ঝরে পড়ে যায়।

  • শিলবৃষ্টি ও ঝড়: মরশুমের মাঝপথে হঠাৎ কালবৈশাখীর সঙ্গে হওয়া ভারী শিলাবৃষ্টির কারণে গাছের অবশিষ্ট আমও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

লক্ষ্যমাত্রা বনাম বাস্তব: কতটা ক্ষতির মুখে মালদা?

মালদা জেলায় সাধারণত প্রতি বছর কয়েক লক্ষ মেট্রিক টন আমের ফলন হয়। ফজলি, ল্যাংড়া, হিমসাগর থেকে শুরু করে লক্ষণভোগ— রকমারি আম এরাজ্যের চাহিদা মিটিয়ে পাড়ি দেয় ভিন রাজ্যে ও বিদেশেও। কিন্তু চলতি মরশুমের পরিসংখ্যান বলছে, এবার ফলনের গ্রাফ লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেক বা তারও নিচে নেমে যেতে পারে।

কী বলছেন আমচাষিরা? ইংলিশবাজার ও রতুয়ার কয়েকজন আমচাষির কথায়, “এবার আম গাছে মুকুলই এসেছিল কম। যা-ও বা গুটি ধরেছিল, চৈত্র-বৈশাখের খরা আর শিলাবৃষ্টিতে সব শেষ। বিঘার পর বিঘা বাগানে এখন আমের দেখা নেই। লোন নিয়ে চাষ করেছিলাম, কীভাবে সেই টাকা শোধ করব বুঝতে পারছি না।”

বাজারদরে কেমন প্রভাব পড়তে পারে?

ফলন কম হওয়ার সরাসরি প্রভাব পড়তে চলেছে আম-বাজারে। ব্যবসায়ীদের মতে, জোগান কম থাকায় এবার মরশুমের শুরু থেকেই মালদার আমের দাম থাকবে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। বিশেষ করে হিমসাগর বা ল্যাংড়ার মতো জনপ্রিয় জাতের আম কিনতে আমজনতাকে বেশ ভালো রকম কড়কড়ে নোট খরচ করতে হবে।

জেলা প্রশাসন ও উদ্যানপালন দফতর অবশ্য ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছে এবং কীভাবে এই ক্ষতি সামলে আগামী দিনে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষ করা যায়, তা নিয়ে চিন্তাভাবনা করছে। তবে চলতি মরশুমে যে মালদার আম ব্যবসা বড়সড় ধাক্কা খেল, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।