ভোট না হলেও মিলবে সব নাগরিক সুবিধা! দীর্ঘ অচলাবস্থা কাটাতে হাওড়া পুরসভার জন্য কী মাস্টারস্ট্রোক প্রশাসনের?

দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ভোটহীন অবস্থায় পড়ে রয়েছে রাজ্যের অন্যতম প্রধান এবং দ্বিতীয় বৃহত্তম পুরনিগম ‘হাওড়া মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন’ (HMC)। ২০১৩ সালের পর সেখানে আর কোনো পুরভোট হয়নি। ফলে নির্বাচিত পুরবোর্ড না থাকায় ধুঁকছিল সাধারণ নাগরিক পরিষেবা। নিকাশি ব্যবস্থা থেকে শুরু করে রাস্তাঘাট সংস্কার ও পানীয় জলের সমস্যা নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছিল হাওড়াবাসীর। এই দীর্ঘমেয়াদী অচলাবস্থা কাটাতে এবং শহরের নাগরিক পরিষেবা পুরোপুরি সচল রাখতে এবার একটি অত্যন্ত বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য প্রশাসন।
সমস্যার উৎস: ২০১৩ থেকে থমকে ভোট
হাওড়া পুরসভার ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, শেষবার এখানে গণতান্ত্রিক উপায়ে পুরভোট হয়েছিল ২০১৩ সালে। এরপর বালির অংশকে হাওড়া পুরসভার সঙ্গে যুক্ত করা এবং পরবর্তীতে তা আবার আলাদা করার আইনি ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনে বছরের পর বছর ঝুলে থাকে নির্বাচন। নির্বাচিত মেয়র বা কাউন্সিলর না থাকায় প্রশাসনিক স্তরে ফাইল আটকে থাকা এবং এলাকার সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ শোনার মতো জনপ্রতিনিধি না থাকার কারণে ব্যাপক ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছিল সাধারণ মানুষকে।
পরিষেবা সচল রাখতে প্রশাসনের বড় সিদ্ধান্ত
ভোটের আইনি জটিলতা কবে কাটবে তা অনিশ্চিত, কিন্তু তাই বলে শহরের পরিষেবা তো থমকে থাকতে পারে না। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজ্য সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে:
-
প্রশাসনিক কমিটির পুনর্গঠন ও ক্ষমতা বৃদ্ধি: নির্বাচিত বোর্ড না থাকা পর্যন্ত পুরসভার দৈনন্দিন কাজকর্ম গতিশীল করতে আমলা ও বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত ‘প্রশাসনিক বোর্ড’ বা অ্যাডমিনিস্ট্রেটর কমিটিকে আরও বেশি সক্রিয় ও ক্ষমতাবান করা হচ্ছে।
-
জরুরি ফান্ডের অনুমোদন (APAS Fund): রাস্তা সংস্কার, আবর্জনা পরিষ্কার এবং বর্ষার আগে নিকাশি নালার আধুনিকীকরণের জন্য বিশেষ ফান্ডের দ্রুত অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে। এলাকাভিত্তিক ওয়ার্ডগুলির দেখভালের জন্য বিশেষ নোডাল অফিসারদের দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে।
-
অনলাইন নাগরিক পরিষেবা: মিউটেশন, ট্রেড লাইসেন্স বা ডেথ-বার্থ সার্টিফিকেটের মতো জরুরি কাজের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের হয়রানি কমাতে পুরো ব্যবস্থাকে আরও বেশি প্রযুক্তিনির্ভর এবং অনলাইন-বান্ধব করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কী বলছেন আধিকারিকরা? নবান্ন সূত্রে খবর, ভোট হওয়াটাই চূড়ান্ত সমাধান। কিন্তু যতদিন না আইনি জট কেটে হাওড়ায় নতুন পুরবোর্ড গঠন হচ্ছে, ততদিন পানীয় জল, স্ট্রিট লাইট ও সাফাইয়ের মতো বুনিয়াদি কাজ যাতে এক শতাংশও ব্যাহত না হয়, তার জন্যই এই বিকল্প প্রশাসনিক পরিকাঠামো জোরদার করা হলো।
হাওড়াবাসীর প্রতিক্রিয়া
দীর্ঘদিন পর পুরসভার কাজকর্মে গতি আনার এই সরকারি সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাচ্ছেন হাওড়ার সাধারণ নাগরিকরা। তবে আমজনতা ও রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি— ত্বরান্বিত প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত সাময়িক স্বস্তি দিলেও, এলাকার দীর্ঘস্থায়ী উন্নয়নের জন্য দ্রুত হাওড়া পুরভোট হওয়া এবং জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর হওয়াটাই সবচেয়ে জরুরি।
হাওড়া জেলা তথা রাজ্যের সব জেলার ছোট-বড় এবং ব্রেকিং খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে লাইক ও ফলো করুন ডেইলিয়ান্ট-এ।