বন্ধ এসি, দমবন্ধ করা গরমে বিমানের ভেতরেই অসুস্থ যাত্রীরা! এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসকে ঘিরে রণক্ষেত্র দিল্লি ও কলকাতা বিমানবন্দর!

দেশের বিমান পরিষেবার হাল যে দিন দিন কতটা শোচনীয় হয়ে উঠছে, তার প্রমাণ মিলল আরও একবার। নামীদামী বিমানসংস্থা ‘এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস’ (Air India Express)-এর একের পর এক চরম গাফিলতিতে এবার নরকযন্ত্রণা ভোগ করতে হলো সাধারণ যাত্রীদের। দিল্লির তীব্র দাবদাহের মধ্যে বিমানের ভেতরে এসি বন্ধ থাকায় গোটা উড়োজাহাজ পরিণত হলো ‘গ্যাস চেম্বারে’। অন্যদিকে, কলকাতার বুকে কোনো সঠিক তথ্য ছাড়াই যাত্রীদের প্রায় ১০ ঘণ্টা বসিয়ে রেখে চরম হয়রানি করার অভিযোগ উঠল এই একই বিমানসংস্থার বিরুদ্ধে। বারবার কেন এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের নামই এমন বিতর্কে জড়াচ্ছে, তা নিয়ে এখন ক্ষোভে ফুঁসছেন আমজনতা।

দিল্লি বিমানবন্দর: বিমানের ভেতরেই ‘গ্যাস চেম্বার’!

দিল্লির তাপমাত্রা যখন প্রায় ৪৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি, ঠিক তখন দিল্লি থেকে ব্যাঙ্গালোরগামী এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের একটি বিমানে (I5 732) ঘটে এক ভয়াবহ ঘটনা।

  • বিমানটি ওড়ার কথা ছিল বিকেল ৪টে ৪৫ মিনিটে, কিন্তু বোর্ডিং করানো হয় সন্ধ্যা ৭টায়।

  • যাত্রীদের ভেতরে বসানোর পর দেখা যায় বিমানের এসি (Air Conditioner) সম্পূর্ণ বিকল

  • ৪৭ ডিগ্রি গরমের মধ্যে বিমানের দরজা বন্ধ থাকায় ভেতরের বাতাস বিষাক্ত হয়ে ওঠে। প্রায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় দমবন্ধ করা পরিস্থিতিতে আটকে থেকে বেশ কয়েকজন শিশু এবং প্রবীণ যাত্রী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন।

বিমানের এক ভুক্তভোগী যাত্রী সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগরে দিয়ে লেখেন, “টাকা দিয়ে টিকিট কেটে আমরা যেন কোনো গ্যাস চেম্বারে ঢুকে পড়েছিলাম। এসি কাজ করছিল না, অথচ আমাদের জোর করে আটকে রাখা হয়েছিল। যাত্রীরা জ্ঞান হারাচ্ছিলেন। এটা কোনো বিমান পরিষেবা নয়, অপরাধ!”

কলকাতা বিমানবন্দর: ১০ ঘণ্টার নজিরবিহীন হয়রানি!

একই দিনে কলকাতায় দেখা গেল এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের অন্য এক চরম অব্যবস্থা। কলকাতা থেকে গুয়াহাটিগামী একটি ফ্লাইটের যাত্রীদের কোনো আগাম নোটিস বা কারণ ছাড়াই প্রায় ১০ ঘণ্টা নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বসিয়ে রাখা হয়। সকালের ফ্লাইট ছাড়তে ছাড়তে রাত হয়ে যায়। যাত্রীদের কোনো খাবার বা জল পর্যন্ত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। ক্ষুব্ধ যাত্রীরা বিমানবন্দরেই বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করলে পরিস্থিতি সামাল দিতে সিআইএসএফ (CISF) নামাতে হয়।

কেন বারবার প্রশ্নের মুখে এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস?

বিগত কয়েক মাসে এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের পরিষেবা নিয়ে বারবার বড়সড় প্রশ্ন উঠছে। বিমান বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে মূলত তিনটি বড় কারণ রয়েছে:

  • ১. কর্মীদের অসন্তোষ ও কর্মবিরতি: কিছুদিন আগেই বিমানসংস্থার কেবিন ক্রু-দের গণ-ছুটিতে যাওয়ার কারণে শয়ে শয়ে ফ্লাইট বাতিল হয়েছিল, যার রেশ এখনো কাটেনি।

  • ২. পুরনো বিমান ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাব: একের পর এক বিমানে এসি খারাপ হওয়া বা যান্ত্রিক গোলযোগ প্রমাণ করছে যে, বিমানগুলির নিয়মিত ও সঠিক মেইনটেন্যান্স বা রক্ষণাবেক্ষণ করা হচ্ছে না।

  • ৩. গ্রাউন্ড স্টাফদের চূড়ান্ত অপেশাদারিত্ব: ফ্লাইট লেট হলে বা বাতিল হলে যাত্রীদের সঠিক তথ্য না দেওয়া এবং বিকল্প ব্যবস্থা না করার এক অভ্যাসে পরিণত করেছে এই সংস্থা।

ডাইরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল অ্যাভিয়েশন (DGCA) বারবার বিমানসংস্থাগুলিকে সতর্ক করলেও এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের এই ক্রমাগত গাফিলতি যাত্রীদের সুরক্ষাকে বড়সড় ঝুঁকির মুখে ফেলে দিচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে টাকা খরচ করে এই সংস্থায় টিকিট কাটা কতটা নিরাপদ, তা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।

Editor001
  • Editor001