“৫ হাসপাতালে নাইট পেট্রলিং”-কড়া পুলিশি নজরদারি, নির্দেশিকা জারি করলো লাল বাজার

আরজি কর-কাণ্ডের ক্ষত থেকে শিক্ষা নিয়ে রাজ্যের সরকারি হাসপাতালগুলির নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবার নজিরবিহীনভাবে কড়া পদক্ষেপ নিল নতুন সরকার। এসএসকেএম (SSKM) হাসপাতালে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পরই নড়েচড়ে বসল লালবাজার। তড়িঘড়ি কলকাতার পাঁচটি বড় সরকারি হাসপাতালে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কলকাতা পুলিশ। বুধবার থেকেই এই নতুন কড়া নিয়ম কার্যকর হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রীর মেগা বৈঠকের পরই ‘অ্যাকশন’ গত শুক্রবার স্বাস্থ্য দফতরের শীর্ষ আধিকারিক এবং বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজের প্রিন্সিপাল ও সুপারদের নিয়ে একটি জরুরি বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে চিকিৎসকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং দীর্ঘদিন ধরে চলা হাসপাতালের দালালচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কড়া নির্দেশ দেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর সেই বার্তার পরই নড়েচড়ে বসে পুলিশ প্রশাসন।

প্রথম পর্যায়ে কলকাতার যে পাঁচটি মেগা সরকারি হাসপাতালে এই বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও কড়াকড়ি চালু হচ্ছে, সেগুলি হল:

  • আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল

  • এসএসকেএম (SSKM) হাসপাতাল

  • মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতাল, কলকাতা

  • নীলরতন সরকার (NRS) মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল

  • ক্যালকাটা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল

আইডি কার্ড ছাড়া প্রবেশ নিষেধ! থাকছে পুলিশের ‘বিশেষ নজরদারি’

লালবাজারের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, এখন থেকে হাসপাতালের ভিতরে প্রবেশের ক্ষেত্রে কড়া স্ক্রিনিং বা নজরদারি চালানো হবে। ডাক্তার, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী থেকে শুরু করে রোগী ও তাঁদের পরিজন—সকলের পরিচয়পত্র বা নির্দিষ্ট ব্যান্ড পরীক্ষা করেই একমাত্র ভিতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে।

নিরাপত্তায় যুক্ত হচ্ছে নতুন প্রযুক্তি: > হাসপাতাল চত্বরে কলকাতা পুলিশের একটি বিশেষ ওয়্যারলেস (Wireless) যোগাযোগ ব্যবস্থা ২৪ ঘণ্টা সক্রিয় রাখা হবে। এর ফলে হাসপাতালের ভেতর কোনও রকম গোলমাল বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হলে, সেই খবর মুহূর্তের মধ্যে পুলিশের মূল নিয়ন্ত্রণকক্ষে (Control Room) পৌঁছে যাবে এবং দ্রুত অ্যাকশন নেওয়া সম্ভব হবে।

মহিলা চিকিৎসক ও নাইট ডিউটিতে বাড়তি সুরক্ষা রাতের শিফটে ডিউটিতে থাকা জুনিয়র ডাক্তার ও নার্সদের নিরাপত্তার জন্য বিশেষ ‘নাইট পেট্রোলিং’-এর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বিশেষ করে মহিলা চিকিৎসকদের বিশ্রামকক্ষ (Rest Room) ও ডিউটি রুমের আশপাশে কলকাতা পুলিশের বাড়ন্ত নজরদারি ও নিরাপত্তা বলয় থাকবে।

এর পাশাপাশি, হাসপাতালগুলিতে সিসিটিভি (CCTV) নজরদারি আরও জোরদার করা হচ্ছে। সমস্ত ক্যামেরা ঠিকঠাক কাজ করছে কি না, তা নিয়মিত পরীক্ষা করবে লালবাজারের বিশেষ টিম। ভিড় নিয়ন্ত্রণ, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ এবং বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষীদের ঢিলেঢালা মনোভাব রুখতে নির্দিষ্ট ডিউটি রোস্টার তৈরির নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনিক মহলের মতে, আরজি কর-কাণ্ডের পর সাধারণ মানুষ ও চিকিৎসা মহলে যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছিল, তা দূর করতে নতুন সরকার কোনও রকম আপস করতে রাজি নয়। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই কড়া মনোভাব এবং পুলিশের এই দ্রুত পদক্ষেপ তারই প্রমাণ।

Editor001
  • Editor001